সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিমবীরগাঁও ইউনিয়নের দূর্বাকান্দা গ্রামে ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম ও আব্দুল সহিদের লোকজনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের সংঘর্ষে নারী পুরুষ সহ ৩০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টায় দূর্বাকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সোমবার (২ নভেম্বর) বিকেলে কামাল মিয়া তার অসুস্থ স্বজনকে দেখার জন্য আব্দুস সহিদকে রোগী দেখার কথা বলে বাড়িতে আসতে বলেন। ইউপি সদস্য কামাল মিয়ার বাড়িতে যাওয়ার পর তার প্রতিপক্ষ আব্দুল সহিদ ও তার লোকজন আকস্মিকভাবে তাকে মারধর করে আহত করে।
এঘটনাটি ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম গ্রামবাসীকে জানালে, গ্রামবাসী হামলায় জড়িত আব্দুল সহিদসহ অন্যান্যদের সামাজিক সালিশ বৈঠকে একঘরে করে রাখার রায় দেন। রায় ঘোষণাকারীদের উপর হামলায় জড়িতরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে আব্দুল শহিদের নেতৃত্বে খোকন মিয়া, সোহেল মিয়া, জাহিদ হাসান, মতিন মিয়া, আলকাছ মিয়া, রাজু মিয়া, নাদির মিয়া, কামাল মিয়া, ছামির মিয়া, আব্দুল কাদির, মোহাম্মদ আলী, শাহজাদা, জিয়াউর রহমান, মহিবুর রহমানসহ ২৫/৩০ জন রামদা, সুলফি জাটা, কিরিচসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইউপি সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম ও কামাল মিয়া প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালায়।
হামলায় ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলামসহ আজমান আলী, সুয়েব মিয়া, ফাজিল মিয়া, রিয়াজ উদ্দিন, সুজাত মিয়া নার্গিস বেগমসহ ২০ জন ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।
গুরুতর আহত সাহাজ উদ্দিন (৪০) আজমান আলীকে (৪১) চিকিৎসার জন্য শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মুমূর্ষ অবস্থায় তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত আব্দুল সহিদ হামলার ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, আগে সাইদুল মেম্বারের লোকজন তাদের উপর হামলা করে। তারা প্রতিরোধ করলে সংঘর্ষ হয়। এতে তিনিসহ তাদের পক্ষের ৭ জন আহত হয়েছেন।
সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম বলেন, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে মো. সাইদুল ইসলাম ও আব্দুল সহিদের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৩০ জনসহ দুজন গুরুতর আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে।