নেতানিয়াহুকে সরাতে চাপ বাড়াচ্ছে বিরোধীরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর প্রচেষ্টা জোরদার করেছেন তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা। তাদের অভিযোগ, নেতানিয়াহু ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক প্রজন্ম ধরে চলে আসা দ্বি-দলীয় সমর্থনকে নষ্ট করেছেন তিনি। এর প্রমাণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়কে তুলে ধরেছেন তারা। এক সপ্তাহ আগে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালেও, অন্য দলগুলোর তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের জোট আরব দলগুলোর সমর্থন পেলে সরকার গঠনের পথ তৈরি হয়ে যাবে। ইয়ার গোলানসহ বেশ কয়েকজন বিরোধী নেতা নেতানিয়াহুকে হটাতে আরবদের সঙ্গে জোটের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ গতকাল বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলই ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়ে আসছে। তবে নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে রিপাবলিকানদের পক্ষ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই দলের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্কের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের। ২০২৩ সালে হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির প্রতি সমর্থন কমতে শুরু করে। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি রিপাবলিকানদের একাংশও এ অভিযানের সমালোচনা করেন। চলতি বছর ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর যৌথভাবে ইরানে হামলার সিদ্ধান্তের পর এ অসন্তোষ আরও বেড়েছে।

এবারের নির্বাচনে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ইসরায়েলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার সমালোচনাকে নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেন। নির্বাচনের দিন ট্রাম্পও ইসরায়েলকে প্রতিবছর দেওয়া ৪০০ কোটি ডলারের সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দেন। গত বুধবার আইজেনকোট বলেন, তার নেতৃত্বে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে জোরদার করবে। মধ্য-বামপন্থি বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটসের নেতা ইয়ার গোলান বলেন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের ফল প্রমাণ করেছে, নেতানিয়াহু ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের কাছেই কতটা ক্ষতিকর হয়ে উঠেছেন। মধ্যপন্থি বিরোধী দলের নেতা ইয়ার লাপিদও মনে করেন, নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকায় ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের কাছে নেতানিয়াহু ‘বিষাক্ত’ ব্যক্তি হয়ে উঠেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।