স্থানীয় নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটদের জয়জয়কার

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উভয়কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর, অঙ্গরাজ্য পর্যায়েও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পাশাপাশি অঙ্গরাজ্য পর্যায়েও দলটির প্রার্থীরা ঐতিহাসিক সাফল্য পেতে যাচ্ছেন। অন্তত পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা গভর্নরের পদে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। এ ছাড়া অন্তত ছয়টি অঙ্গরাজ্যে সরকার পরিচালনার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পথে রয়েছে দলটি। এবারের জয়ের ফলে কয়েক বছর পর প্রথমবারের মতো গভর্নর পদগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাটরা। এর মধ্যে টেক্সাসের মতো ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যও রয়েছে। সেখানে বিপুল অর্থের প্রচারণা চালানো রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা। এর মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির ইতিহাসে প্রথম লাতিনা গভর্নর হতে যাচ্ছেন তিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গভর্নর পদ ছাড়াও অঙ্গরাজ্যের আইনসভাগুলোতে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। মিশিগান, মিনেসোটা, পেনসিলভানিয়া ও উইসকনসিনে আইনসভার উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন তারা। এর ফলে এসব অঙ্গরাজ্যে গভর্নর ও আইনসভা দুইয়ের নিয়ন্ত্রণই পেল দলটি। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণকে ‘ট্রাইফেক্টা’ বলা হয়। এছাড়া জর্জিয়া, আইওয়া, ওহাইও ও টেক্সাসে রিপাবলিকানদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ভেঙে দিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।

নীতি বিশেষজ্ঞদের মতে এসব জয়ের ফলে ন্যূনতম মজুরি, ডেটা সেন্টার, গর্ভপাতের সুযোগসহ বিভিন্ন বিতর্কিত বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর আইন প্রণয়নে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ বাড়বে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের আসনের সীমানা নির্ধারণ, নির্বাচন পরিচালনা এবং ফলাফল চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রেও এসব জয়ের প্রভাব পড়তে পারে। সবচেয়ে বড় ও অপ্রত্যাশিত জয়গুলোর কয়েকটি এসেছে এমন কিছু দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যে, যেগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী জয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। জর্জিয়া, ইন্ডিয়ানা ও ওহাইও এই তিন অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের ক্ষমতাসীন সেক্রেটারি অব স্টেটদেরও হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা।

পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির ম্যাককোর্টনি ইনস্টিটিউট ফর ডেমোক্রেসির পরিচালক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক মাইকেল বার্কম্যানের মতে, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনগুলোর জন্য এসব ফলাফল ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’। বার্কম্যান রয়টার্সকে বলেন, এবার ডেমোক্র্যাটদের সামনে সেই নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ডেমোক্র্যাট নেতারা ও আইনপ্রণেতারা সম্প্রতি জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় থাকা কিছু রক্ষণশীল নীতি পরিবর্তনের চেষ্টা করবেন। তবে জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির ম্যাককোর্ট স্কুল অব পাবলিক পলিসির অধ্যাপক ক্রিস ওয়ারশ রয়টার্সকে বলেন, নতুন দায়িত্ব নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাটদের সামনে ‘উদারপন্থি আইন প্রণয়নের বিশাল এক তালিকা’ও রয়েছে। ওয়ারশ বলেন, তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হবে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগ দূর করা। এ জন্য ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো, ফেডারেল স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি মেডিকেইডের পরিধি বাড়ানো এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

টেক্সাস-জর্জিয়ায় ২০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো অঙ্গরাজ্যের আইনসভার নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারেন রিপাবলিকানরা। দুই অঙ্গরাজ্যেই আইনসভার একটি করে কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে জয়ের পর দেওয়া ভাষণে হিনোজোসা বলেন, ‘ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন, আর তারা সেই পরিবর্তনই পাবেন।’ রয়টার্স জানিয়েছে, টেক্সাস ও জর্জিয়ার ভোটাররা এক দশকের বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো ডেমোক্র্যাট অ্যাটর্নি জেনারেলও নির্বাচিত করেছেন।