অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেত্রী স্যান্ড্রা বুলকের একটি স্কুলে সংবর্ধনা বা বিশেষ সম্মাননা পাওয়ার বিষয়টি মূলত নিউ অরলিন্সের ঐতিহাসিক ‘ওয়ারেন ইস্টন চার্টার হাই স্কুল’-এর সঙ্গে তার দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময়ের মানবিক সম্পর্কের গল্প। ২০০৫ সালে প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় ‘ক্যাটরিনা’র আঘাতে যখন স্কুলটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল, তখন থেকেই তিনি এর পুনর্গঠনে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই দীর্ঘদিনের পরোপকারী যাত্রার কথা নতুন করে প্রশংসার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে। এই স্কুল ও শিক্ষার্থীদের জন্য লাখ লাখ ডলার অনুদান দিয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন বলে উল্লেখ করেছেন স্কুলটির কর্তৃপক্ষ।
স্কুলটি পুনর্নির্মাণে তিনি লাখ লাখ ডলার অনুদান দেন। এছাড়া ২০১০ সালে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ডেন্টাল সেবা দিতে তিনি সেখানে একটি আধুনিক হেলথ ক্লিনিক স্থাপনে বড় ভূমিকা রাখেন। স্কুলটির গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার স্কলারশিপ বা বৃত্তি প্রদান, স্কুলের মার্চিং ব্যান্ডের ইউনিফর্ম এবং অ্যাথলেটিক সরঞ্জাম কিনে দিতে তিনি নিয়মিত অর্থায়ন করেছেন।
২০১৪ সালে এই স্কুলের শিক্ষার্থীদের সমাবর্তনে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হাজির হয়ে এক অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দিয়েছিলেন অস্কারজয়ী অভিনেত্রীস্যান্ড্রা বুলক। যা এখনও বেশ জনপ্রিয়।
স্যান্ড্রা বুলক এই স্কুলটির শিক্ষার্থীদের নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসেন এবং তিনি এটিকে তার জীবনের অন্যতম ‘সেরা বিনিয়োগ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
এ ছাড়া স্যান্ড্রা বুলক বিভিন্ন বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে মার্কিন রেড ক্রস এবং অন্যান্য সংস্থাকে একাধিকবার ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) ডলার করে অনুদান দিয়েছেন। এক মিলিয়ন করে ২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসী হামলার পর ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায়, ২০০৪ সালের এশিয়ার ভয়াবহ সুনামি কবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে, ২০০৫ সালে হারিকেন ‘ক্যাটরিনা’ নিউ অরলিন্সের মানুষের পুনর্বাসনের জন্য, ২০১০ সালে হাইতির ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ‘ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস’ সংস্থাকে, ২০১১ সালে জাপান ভূমিকম্প ও সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি খাদ্য ও আশ্রয়ের জন্য সহায়তা করেন। তাছাড়া ২০১৭ সালে টেক্সাসে হারিকেন হার্ভে আঘাত ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তিনি রেড ক্রসের ত্রাণ তহবিলে ১ মিলিয়ন ডলার যুক্ত করেন।
তবে স্যান্ড্রা বুলক আরও একটি কারণে আলোচিত হয়েছিলেন। তিনি একই বছরে হলিউডের সবচেয়ে খারাপ এবং সবচেয়ে ভালো অভিনয়ের পুরস্কার লাভ করে এক অনন্য রেকর্ড গড়েছিলেন। ২০১০ সালের মার্চ মাসে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনি এই দুটি পুরস্কার নিজের নামে করেন।
সূত্র: আইএমডিবি/টাইম অব ইন্ডিয়া/টাইম ম্যাগাজিন