মানুষ গণহত্যাকারীদের আর রাজনীতি করতে দেবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের মানুষ আর কোনোদিন গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, যারা মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে, দুঃশাসন ও নির্যাতনের মাধ্যমে দেশকে শাসন করেছে, সেই ফ্যাসিবাদী শক্তির রাজনীতিতে ফিরে আসার কোনো সুযোগ নেই। গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানে আলেম-ওলামা এবং ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের শাসনামলে অসংখ্য মানুষ গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে দীর্ঘ সময়ে প্রায় ৩ হাজার মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ সময় নিজের গুম হওয়ার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘যারা গণহত্যা চালিয়েছে, তারা এখনো দুঃখ প্রকাশ বা অনুশোচনা করেনি। যারা গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তাদের প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি করার চেষ্টা জনগণ মেনে নেবে না। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও গণহত্যাকারীদের রাজনীতিতে ফেরার প্রশ্নে দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকবে।’ গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব কর্মকা-ের পেছনে ফ্যাসিবাদী শক্তির হাত রয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মের নাম ব্যবহার করে রাজনীতি করা দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘মুখে ইসলামের কথা বললেও তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ও দলীয় অবস্থানে ইসলামি শাসনব্যবস্থার প্রতিফলন নেই।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি ইসলামি মূল্যবোধে বিশ্বাসী। দলটি সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়। ধর্মের নামে বিভাজন নয়, বরং জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি সংবিধানে ইসলামি মূল্যবোধের বিষয়গুলো ধারণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টি পুনঃস্থাপনের প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা যাবে, তবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে দেশের মানুষের স্বার্থবিরোধী কোনো কর্মকান্ড করা উচিত নয়। সরকারকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, রপ্তানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সরকার সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে চায়। বিশেষ করে আলেম-ওলামা ও কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

দুদিনব্যাপী সম্মেলনের সমাপনী দিনে উপস্থিত ছিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া, জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমসহ স্থানীয় আলেম-ওলামা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।