আবারও গাইবান্ধায় কুকুরের কামড়ে ২৩ জন আহত

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বেওয়ারিশ কুকুরের কামড়ে একদিনে ২৩ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। তারা ভ্যাকসিনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। এ ঘটনায় উপজেলার দুটি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে জলাতঙ্কের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলেও কুকুরের কামড়ে সুন্দরগঞ্জে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল হাসান। 

মুঠোফোনে তিনি জানান, একটি কুকুরের আক্রমণে উপজেলার বেলকা ও শান্তিরাম ইউনিয়নে ২৩ জন আহত হয়েছেন। তারা সবাই ভ্যাকসিনসহ চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

আহত ব্যক্তি ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল থেকে বেলকা বাজার ও আশপাশের এলাকায় একটি কুকুর মানুষের ওপর আক্রমণ শুরু করে। বাজার ও রাস্তায় সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড় দিয়েছে কুকুরটি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কারও পায়ে, কারও হাতে, আবার কারও মুখে কামড় দেয়। একই দিনে বেলকা এলাকায় ১৭ জন এবং শান্তিরাম এলাকায় ছয়জন কুকুরটির কামড়ের শিকার হন। পরে তাদের অনেকেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।

বেলকা গ্রামের শফিকুল ইসলাম (৪৫) বলেন, ‘সকালে বাজারে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ একটি কুকুর এসে পায়ে কামড় দেয়। পরে হাসপাতালে গিয়ে ভ্যাকসিন নিয়েছি। গ্রামবাসী অনেক চেষ্টা করেও কুকুরটিকে মারতে পারেনি।’

কুকুরের আক্রমণের পর থেকে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। কখন আবার কে আক্রান্ত হন, সেই আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত অভিভাবকেরা। অনেকেই শিশুদের একা বাইরে যেতে দিচ্ছেন না। প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বের হওয়াও কমিয়ে দিয়েছেন কেউ কেউ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, শুক্রবার থেকে শনিবার দুপুর ২টা পর্যন্ত কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়ে ৩১ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের ২২ এপ্রিল উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা কঞ্চিবাড়ি, কঞ্চিবাড়ি এবং পাশের ছাপড়হাটি ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় একটি বেওয়ারিশ কুকুর নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৪ জনকে কামড়ে আহত করে। পরদিন থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিরা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন নিতে শুরু করেন। কয়েকজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাদের মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা বাড়লেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাজার, রাস্তা ও আবাসিক এলাকায় এসব কুকুর অবাধে ঘোরাফেরা করছে। এ সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি।

বেওয়ারিশ কুকুরের টিকাদানের জন্য কোনো বরাদ্দ রয়েছে কি না, তা জানতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে. এম. ইফতেখারুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।