টানা আট জয়ে বার্সার পাশে রিয়াল

লা লিগায় নিজেদের অপ্রতিরোধ্য যাত্রা অব্যাহত রেখে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার পয়েন্টের পাশে দাঁড়িয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। মেস্তায়া স্টেডিয়ামে গতকাল রাতে স্বাগতিক ভ্যালেন্সিয়াকে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা অষ্টম জয় তুলে নিয়েছে হোসে মরিনহো শিষ্যরা। 

উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস জুনিয়র চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার শেষ ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে কাটালেও লস ব্লাঙ্কোসদের জয়রথে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। ফেদেরিকো ভালভার্দে, আর্দা গুলের এবং কিলিয়ান এমবাপ্পেদের দারুণ সব গোলে ভর করে বর্তমান লিগ লিডার বার্সেলোনার সঙ্গে পয়েন্ট তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষে উঠে বসল রিয়াল।

ম্যাচের শুরু থেকেই মেস্তায়ার মাঠে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে খেলে রিয়াল। ম্যাচের নবম মিনিটে খেলা থামিয়ে খেলোয়াড় ও সমর্থকরা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুবরণ করা টেনেরিফে স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেলের স্মরণে নীরবতা পালন করেন। এরপর ম্যাচের ২৮তম মিনিটে এমবাপ্পের ফ্রি-কিক দেওয়ালের গায়ে প্রতিহত হয়ে ফিরে এলে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির নিচু শটে রিয়ালকে এগিয়ে নেন দলের অধিনায়ক ভালভার্দে। চ্যাম্পিয়নস লিগে এইকে এথেন্সের বিপক্ষে করা দূরপাল্লার গোলের পর এটি উরুগুইয়ান তারকার টানা দ্বিতীয় গোল। 

এর মাত্র আট মিনিট পর, ৩৬তম মিনিটে জ্যুড বেলিংহামের ডিফ্লেক্টেড ক্রস থেকে নিখুঁত এক ভলিতে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তরুণ তুর্কি সেনসেশন গুলের। চলতি মৌসুমে এটি তার চতুর্থ গোল।

দ্বিতীয়ার্ধেও রিয়ালের আক্রমণের ধার কমেনি। ভ্যালেন্সিয়া কোচ হাভিয়ের আগুয়েরে দল গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ম্যাচের ৭৫তম মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন এমবাপ্পের ট্রেডমার্ক ফিনিশিং। গুলেরের বাড়ানো লম্বা বল ধরে গোলরক্ষক স্তোলে দিমিত্রিভস্কিকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে দেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। এটি সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে গত সাত ম্যাচে এমবাপের টানা গোল এবং চলতি মৌসুমে তাঁর ১৭তম গোল। ম্যাচের শেষ দিকে ভ্যালেন্সিয়া অধিনায়ক হোসে গায়া এমবাবেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে স্বাগতিকদের দুর্দশা আরও বাড়ে। অবশ্য রিয়ালও সেখানে আর স্কোরলাইন বাড়াতে পারেনি। ম্যাচ শেষ হয় ৩-০ ব্যবধানেই। 

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে রিয়ালের এই দুর্দান্ত ফর্মে থাকার রহস্য ব্যাখ্যা করে কোচ মরিনহো বলেন, ‘আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, এই দলটির সুবাস খুব ভালো পাওয়া যাচ্ছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে হারের পর আমরা কখনোই নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বা মাথা ঠান্ডা রাখি না, আমরা ঠিক বুঝতে পেরেছিলাম কেন আমরা ম্যাচটি হেরেছি। ভালো সময়েও আমি সব সময় খেলোয়াড়দের ভারসাম্য বজায় রাখতে লড়াই করি এবং তাদের বলি যে রিয়াল মাদ্রিদের মতো ক্লাবে ম্যাচ জেতাটাই স্বাভাবিক ঘটনা, তাই আনন্দের কোনো ঘূর্ণি ঝড়ে ভেসে যাওয়া যাবে না।’ 

এদিকে রিয়ালের প্রশংসায় ভ্যালেন্সিয়ার ডিফেন্ডার হোসে গায়া বলেন, ‘আমরা জানতাম ম্যাচটি ভীষণ কঠিন হবে, কারণ আমরা এমন এক সময়ে রিয়ালের মুখোমুখি হয়েছিলাম যখন তারা তাদের মৌসুমের সেরা ছন্দে রয়েছে। আমরা দ্বিতীয়ার্ধে কৌশল বদলানোর চেষ্টা করেও খেলায় আর ফিরতে পারিনি।’ 

দারুণ এই জয়ে শিরোপা লড়াই জমিয়ে তুলে ১২ ম্যাচে রিয়ালের পয়েন্ট দাঁড়াল ৩০। অবশ্য সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা বার্সেলোনা এক ম্যাচ কম খেলেছে। লিগের এই সপ্তাহে তাদের ম্যাচ আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে, বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায়। সেই ম্যাচের জয়ী দল এককভাবে উঠে যাবে শীর্ষে।