উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে এএকে এথেন্সকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে (৯২তম মিনিটে) ফেদেরিকো ভালভার্দের অসাধারণ এক জয়সূচক গোলে এই রোমাঞ্চকর জয় নিশ্চিত করে লস ব্লাঙ্কোসরা। এই জয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজেদের মাঠে এএকে এথেন্সের টানা সাতটি জয়ের অবিশ্বাস্য ধারা থামিয়ে দিল জসে মরিনহোর শিষ্যরা।
ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিজেদের মাঠে সবসময়ই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ এএকে এথেন্স। ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষেও তারা দুর্দান্ত লড়াই উপহার দেয়। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ধার বজায় রেখে প্রথম সুযোগটি তৈরি করেছিল স্বাগতিক দলই। ম্যাচের প্রথমার্ধে আবু বাকারি কোইতার দারুণ এক গোলে এগিয়ে যায় এএকে এথেন্স।
তবে পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরতে বেশি সময় নেয়নি রিয়াল। প্রথমার্ধের ৩০ মিনিটের ঠিক আগে ডি বক্সের জটলা থেকে বল পেয়ে দারুণ এক শটে গোল করেন জুড বেলিংহাম (যিনি মার্ক কুকুরেয়ার ক্রসে দারুণ ফ্লিকে বল জালে জড়ান)।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই এএকে এথেন্সের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে রিয়াল। কিলিয়ান এমবাপ্পে বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালালেও স্বাগতিক গোলরক্ষক আলবার্তো ব্রিগনোলি ও ডিফেন্ডাররা তা প্রতিহত করেন। এরপর ম্যাচের ৭৫ মিনিটে স্টেভ্রোস পিলিওস গোল করে আবারও এএকে এথেন্সকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
কিন্তু এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে দেয়নি রিয়াল। গোল খাওয়ার ঠিক তিন মিনিট পরেই ডানজেল ডামফ্রিসের পাস থেকে দারুণ এক ট্যাপ-ইন গোলে ব্যবধান ২-২ করেন ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। এটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তার টানা ষষ্ঠ ম্যাচে গোল করার রেকর্ড।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের পথে, ঠিক তখনই আসে সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। ম্যাচের যোগ করা সময়ে (৯২তম মিনিট) ২৫ গজ দূর থেকে বুলেট গতির এক শট নেন ফেদেরিকো ভালভার্দে। তার সেই দুর্দান্ত শটটি সরাসরি জালে আশ্রয় নিলে ৩-২ গোলের ব্যবধানে উল্লাসে ফেটে পড়ে রিয়াল শিবির। এর কিছুক্ষণ পর অতিরিক্ত প্রতিবাদের কারণে এএকে এথেন্সের কোইতা লাল কার্ড দেখলে স্বাগতিকদের হতাশা আরও বেড়ে যায়।
এই জয়ে চলতি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের খেলা চারটির সবকটিতেই জয় তুলে নিল রিয়াল মাদ্রিদ। আর চমৎকার পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচসেরা (Man of the Match) নির্বাচিত হয়েছেন রিয়ালের জুড বেলিংহাম।