নিউজিল্যান্ডের নির্বাচনে এগিয়ে ক্ষমতাসীন জোট

নিউজিল্যান্ডের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক ফলাফলে ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টির নেতৃত্বাধীন জোট সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও প্রায় ১৪ শতাংশ ভোট গণনা বাকি রয়েছে। এসব বিশেষ ভোটের ফল প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে আগামী তিন বছর দেশটির শাসনভার কার হাতে যাচ্ছে। খবর আল জাজিরা। 

নিউজিল্যান্ডের নির্বাচন কমিশনের রবিবার (৮ নভেম্বর) প্রকাশিত প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টি, অ্যাক্ট  এবং নিউজিল্যান্ড ফার্স্টের সমন্বয়ে গঠিত জোট পার্লামেন্টের সম্ভাব্য ১৩১টি আসনের মধ্যে ৬৭টি পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬৬টি আসন। অর্থাৎ, প্রাথমিক হিসাবে মাত্র এক আসনের ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে ক্ষমতাসীন জোট।

তবে এখনো প্রায় ১৪ শতাংশ ভোট গণনা বাকি। এসব ভোটের বড় অংশই বিশেষ ভোট, যার মধ্যে বিদেশে অবস্থানরত নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের ভোট এবং নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে দেওয়া ভোট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এসব বিশেষ ভোটের ক্ষেত্রে সাধারণত বামপন্থী দলগুলো তুলনামূলক বেশি সমর্থন পেয়ে থাকে।

আগামী ২৭ নভেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশের সময় এসব ভোটের হিসাবও যুক্ত হবে। ফলে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাসীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। চূড়ান্ত ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।

নির্বাচনের রাতে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লুক্সন কিংবা বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা ক্রিস হিপকিন্স—কেউই নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেননি। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় মূলত অর্থনীতির মন্থর গতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।

নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, মধ্যপন্থী দল অপারচুনিটি পার্টি সংসদে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় ৫ শতাংশ ভোটের সীমা অতিক্রম করতে যাচ্ছে। চূড়ান্ত গণনায় ক্ষমতাসীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে সরকার গঠনের জন্য ন্যাশনাল নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা বামঘেঁষা জোট—যেকোনো পক্ষকেই এই দলের সমর্থন নিতে হতে পারে। 

নিউজিল্যান্ডের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী পিটার ডান মনে করেন, এবারের নির্বাচন মূলত জীবনযাত্রার ব্যয়সংকটকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। তার মতে, ভোটাররা মূলত বিবেচনা করেছেন—প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের মধ্যে কারা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কমাতে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।

আল জাজিরাকে ডান বলেন, ‘ক্ষমতাসীন জোট এখন পর্যন্ত মধ্য-বামপন্থী জোটের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে। তবে প্রাথমিক ফল পরিবর্তিত হতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা বিস্ময়কর, কারণ আমরা আরও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রত্যাশা করেছিলাম।’

সব মিলিয়ে ২৭ নভেম্বরের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের পরবর্তী সরকার নিয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। মাত্র একটি আসনের ব্যবধানে এগিয়ে থাকা ক্ষমতাসীন জোটের ভাগ্য নির্ধারণে এখন সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে বাকি ভোটগুলো।