নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণ দ্বীপের এক দুর্গম সৈকতে আটকা পড়ে ছয়টি তিমির মৃত্যু হয়েছে। এখনও জীবিত থাকা আরও ১৫টি তিমিকে সাগরে ফিরিয়ে নিতে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন স্বেচ্ছাসেবীরা। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ফেয়ারওয়েল স্পিট এলাকায় প্রায় ৫৫টি পাইলট তিমি তীরে উঠে আসে। এর মধ্যে বেশিরভাগই সমুদ্রে ফিরে যেতে সক্ষম হলেও ১৫টি আবারও তীরে আটকা পড়ে যেগুলো প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে।
সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা প্রজেক্ট জোনার প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবীরা তিমিগুলোর শরীর ঠান্ডা রাখতে বালতি দিয়ে পানি ঢালছেন। প্রজেক্ট জোনার প্রতিনিধি লুইসা হকস জানান, জোয়ার আসার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত তিমিগুলোকে একত্র করে গভীর পানিতে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাইলট তিমি সামাজিক প্রাণী হওয়ায় তাদের ঘনিষ্ঠ একটি দলে রাখলে একসঙ্গে সাঁতরে সাগরে ফিরতে সুবিধা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিউজিল্যান্ডের সংরক্ষণ বিভাগ ঘটনাস্থলে রেঞ্জার, নৌকা ও ড্রোন মোতায়েন করেছে এবং নতুন করে কোনো তিমি আটকে পড়ে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করছে। দক্ষিণ দ্বীপের উত্তর প্রান্তে অবস্থিত ফেয়ারওয়েল স্পিট এলাকায় প্রায়ই ভাটায় তিমি আটকা পড়ার ঘটে। সংরক্ষণ বিভাগের ভাষায়, এটি একটি প্রাকৃতিক 'তিমি ফাঁদ', যেখানে অগভীর জোয়ার-ভাটা ও দ্রুত পানি নেমে যাওয়ার কারণে তিমিরা সহজেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে এখানেই ৪০০টির বেশি পাইলট তিমি তীরে উঠে আসে, যা গত একশ বছরের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে বড় ঘটনা ছিল।
