সিলেট টেস্টের তৃতীয় দিন জুড়ে তাওহীদ হৃদয়ের একক লড়াই আর অপরাজিত ২৪২ রানের ঐতিহাসিক ইনিংসে চড়ে ৩৮৬ রানের লড়াকু পুঁজি গড়েছিল বাংলাদেশ। কিছুটা স্বস্তিও ফিরেছিল। তবে চতুর্থ দিনেই সেই স্বস্তি পুরোপুরি কর্পূরের মতো উড়ে গেল। টেস্টের শেষ দিকে এসে ব্যাটিং স্বর্গের বনে যাওয়া উইকেটে পুরো দিনজুড়ে ক্যারিবীয় ব্যাটারদের রান উৎসবের সাক্ষী হলো সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম।
সারাদিনে ৭৯ ওভার খেলে ৩৪৯ রান যোগ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেখানে বাংলাদেশের প্রাপ্তি কেবল ৩ উইকেট। দিন শেষে সফরকারীরা ৩ উইকেটে ৩৫৬ রান সংগ্রহ করায় তাদের লিড দাঁড়িয়েছে ৩১৫ রানে।
দিনের শেষ সেশনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান উৎসব আরও গতি পায়। ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া কাভেম হজ দুর্দান্ত ছন্দে ব্যাট করে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। তাইজুল ইসলামের দারুণ এক ফিরতি ক্যাচে ৭৯ রান করা কেভিন উইকহ্যাম সাজঘরে ফিরলে ১৬৫ রানের লম্বা জুটি ভাঙে।
উইকহ্যাম ফেরার পর উইকেটে এসে প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান আমির জাঙ্গুকে সঙ্গে নিয়ে দলের লিড তিন শ পার করেন হজ। দিন শেষে ১৮৯ বলে ১৪০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলে অপরাজিত রয়েছেন কাভেম হজ, আর তাঁর সঙ্গে ২০ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন জাঙ্গু।
শেষ সেশনের মতো প্রথম দুই সেশনের চিত্রটাও ছিল স্বাগতিকদের জন্য বড় হতাশার। আগের দিন ৩০ রানে পিছিয়ে থেকে চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করা উইন্ডিজ প্রথম সেশনেই স্কোরবোর্ডে ১২১ রান যোগ করে। যদিও স্পিনার তাইজুল ঘূর্ণিতে জশুয়া ডা সিলভা (৩৬) এবং মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ব্রেন্ডন কিং (৬১) সাজঘরে ফিরেছিলেন। তবে চালকের আসন ছিল সফরকারীদের কাছেই।
এরপর দ্বিতীয় সেশনে তো কোনো উইকেটের দেখাই পায়নি বাংলাদেশ। হজ এবং উইকহ্যামের ম্যারাথন জুটিতে রান কেবল বেড়েই চলেছে। প্রথম ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিং করা হাসান মাহমুদ কিংবা তাসকিন আহমেদদের পেস আক্রমণ এই ইনিংসে পুরোপুরি নিষ্প্রভ ছিলেন। পেসারদের ব্যর্থতার দিনে বাংলাদেশের বোলিং অর্ডারে যা একটু অর্জন দুই স্পিনার তাইজুল ও মিরাজের, যারা সারাদিনের পরিশ্রমে তুলে নিয়েছেন কেবল ওই ৩টি উইকেট।