দ্বিতীয় সেশনেও উইন্ডিজের দাপট, উইকেটের খোঁজে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম

সিলেটে টেস্টের চতুর্থ দিনটা নিজেদের করে নিচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম সেশনেও দাপট ছিল তাদেরই। সেখানে অবশ্য দুটি উইকেট হারিয়েছিল তারা, তবে দ্বিতীয় সেশনে কোনো উইকেটই দিল না উইকহ্যাম-হজের অনবদ্য জুটি। এতে খাতা-কলমের হিসেবে বাংলাদেশের হাতের নাগাল থেকে ম্যাচ দূরে সরে গেছে বহুদূর। উইন্ডিজের লিড এরই মধ্যে দুই শ রান ছাড়িয়ে যাওয়ায় চতুর্থ ইনিংসে জয় পেতে হলে ইতিহাস গড়তে হবে বাংলাদেশকে।

চা বিরতিতে যাওয়ার আগে উইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৬২ ওভারে ২ উইকেটে ২৫৯ রান। লিড ২২৯ রানের। ৬৩ রানে অপরাজিত আছেন কেভিন উইকহ্যাম, আর সেঞ্চুরির পথে থাকা কাভেম হজ অপরাজিত ৯৩ রানে। 

এর আগে দিনের শুরুতে প্রথম সেশনে বিনা উইকেটে দিন শুরু করা উইন্ডিজ ব্যাটাররা সাবলীল ব্যাটিংয়ে স্কোরবোর্ডে অতিরিক্ত রান যোগ করেন। বোলিংয়ে তাসকিন-হাসানরা তেমন ধার না থাকায় জশুয়া ডা সিলভা ও ব্রেন্ডন কিং দ্রুত রান তুলতে থাকেন। যদিও স্পিনার তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে জশুয়া (৩৬) এবং মেহেদী হাসান মিরাজের বলে ব্রেন্ডন কিং (৬১) সাজঘরে ফিরেছিলেন, তবুও প্রথম সেশনের শেষভাগে ম্যাচে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেয় ক্যারিবীয়রা। 

সেই ধারা ধরে রেখে দ্বিতীয় সেশনেও পুরো সময়ে চলে হজ ও উইকহ্যামের রানের চাকা। সাবলীল ব্যাটিংয়ে হজ তুলে নেন তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের পঞ্চম ফিফটি। অন্যদিকে, প্রথম ইনিংসে ৬১ রান করা অভিষিক্ত উইকহ্যাম দ্বিতীয় ইনিংসেও তুলে নেন দারুণ এক ফিফটি।

এই জোড়া ফিফটির সুবাদে উইন্ডিজের অষ্টম ব্যাটার হিসেবে টেস্ট অভিষেকে দুই ইনিংসেই অর্ধশতক হাঁকানোর অনন্য কীর্তি গড়েন উইকহ্যাম। এর আগে ক্যারিবীয়দের হয়ে সবশেষ ১৯৭৮ সালে টেস্ট অভিষেকে এই কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন সিউ শিবনারাইন, যার তালিকায় নাম রয়েছে ক্লাইভ লয়েড ও গর্ডন গ্রিনিজদের মতো কিংবদন্তিদেরও। ১৯৩০ সালে এই কীর্তি প্রথম গড়েছিলেন ফ্রাঙ্ক ডি কাইরেস।

হজ ও উইকহ্যামের এই জুটি ইতিমধ্যেই তুলেছে ১৪০ রান। এতে ম্যাচটা শান্ত-হৃদয়ের জন্য বেশ কঠিনের পথেই যাচ্ছে। ২০০৯ সালে এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১৫ রান তাড়া করে জিতেছিল বাংলাদেশ, যা ছিল এই ফরম্যাটে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড। সেই পথ তো পেরিয়েছেই, উল্টো হাতে যখন আছে আরও ৮ উইকেট সেখানে লিড আরও বেশ খানিকটা যে বড় হবেই তা বলাই যাচ্ছে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত