শতভাগ কায়িক পরীক্ষার আদেশ প্রত্যাহার ভারতের

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৯, ১১:২৮ পিএম

পেট্রাপোল বন্দরে প্রতিটি চালান ট্রাক থেকে পণ্য আনলোড করে শতভাগ কায়িক পরীক্ষা সম্পন্নের পর বাংলাদেশে রপ্তানি হবে- এমন আদেশ  গতকাল সোমবার প্রত্যাহার করে নিয়েছে ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার কলকাতার চিফ কাস্টমস কমিশনার স্বাক্ষরিত এক আদেশে সম্প্রতি এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

পরে বন্দরে পর্যাপ্ত জায়গা, জনবল ও পণ্য ওঠানো-নামানোর যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা না থাকায় পেট্রাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ শতভাগ পণ্য পরীক্ষার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে। এতেও ব্যবসায়ীরা দুশ্চিন্তামুক্ত হতে পারছেন না। কারণ এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৬ হাজার পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকে আছে পেট্রাপোল বন্দরে।  আমদানিকারকরা বলেন, বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় এমনিতেই একটি চালান ভারত থেকে আসতে ১০-১৫ দিন সময় লেগে যায়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া পেট্রাপোল বন্দরে প্রতিটি পণ্য চালান আনলোড করে শতভাগ পরীক্ষা করা হলে ভোগান্তি আরও কয়েকগুণ বাড়ত। এতে পণ্য খালাস কঠিন হয়ে পড়ত, সেই সঙ্গে আমদানি খরচও বেড়ে দ্বিগুণ হতো। আর এর প্রভাব পড়ত দেশের বাজারে। ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের হঠকারী সিদ্ধান্ত স্থগিতে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য স্বাভাবিক গতিতেই চলবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ১৬ এপ্রিল ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ সেখানকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়, আমদানি-রপ্তানি পণ্য চালান খালাসের আগে বন্দরে শতভাগ পরীক্ষা করতে হবে। এরপর ভারত থেকে বেনাপোল বন্দরে পণ্য চালান ব্যাহত হয়। কয়েক হাজার পণ্যবোঝাই ট্রাক আটকে যায় বন্দর এলাকায়।

আমদানিকারক ইদ্রিস আলী বলেন, ভারতীয় পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক পরিশোধ করতে হয় বেনাপোল বন্দরে। এখানে শতভাগ পরীক্ষার পরই পণ্য খালাস করতে হয়ে। কিন্তু পণ্য চালান আমদানির আগে পেট্রাপোল বন্দরে শতভাগ পরীক্ষার সিদ্ধান্তে দুই দেশের ব্যবসায়ী মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকে আন্দোলনে যাওয়ার কথাও জানান। 

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, আমদানিপণ্যের শতভাগ পরীক্ষণ বন্ধের সিদ্ধান্ত অস্থায়ী হতে পারে। সেটা যে কোনো সময় কার্যকর হতে পারে। তাই বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক দরকার। তা না হলে পরে ব্যবসায়ীরা আবার একই সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।

ভারতের পেট্রাপোল কাস্টমস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র দাস জানান, পণ্য রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা পেট্রাপোল বন্দরে না থাকায় এমনিতেই সেখানে সারা বছর পণ্যজট লেগে থাকে। শতভাগ পরীক্ষার যেসব সমস্যা হবে, তা কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে বোঝাতে সক্ষম হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত স্থগিত করে আগের নিয়মেই পণ্য খালাস দেওয়া হচ্ছে।

বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার মোহাম্মদ বেলাল হোসেইন চৌধুরী জানান, ভারতীয় কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ভোগান্তি বাড়াবে। ব্যবসায়ীদের ভোগান্তির কথা মাথায় রেখেই তারা তাদের আদেশ প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত