বিদেশের মাটিতে স্মরণীয় সংবর্ধনা পেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গত রবিবার টেক্সাসের হিউস্টনে এনআরজি স্টেডিয়ামে তাকে এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়, যেটি ‘হাউডি মোদি’ নাম পেয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন শুরুর আগে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত যে চাপে ছিল, তা থেকে বের হওয়ার জন্য এমন মওকা খুঁজছিলেন মোদি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হাজির হওয়ায় তার ষোলোকলা পূর্ণ হয়। ট্রাম্পেরও যে একেবারে অর্জন কিছু নেই, এমন না। ২০২০ সালের নির্বাচন ঘিরে বৈচিত্র্যে ভরা টেক্সাসের ভোটব্যাংক তিনি ঠিকই ঝালাই করলেন।
গাঢ় রঙের স্যুট পরে ট্রাম্প ও হলুদ কুর্তা পরা মোদি মঞ্চে আসার আগে ৯০ মিনিটের মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানে ৪০০ শিল্পী অংশ নেন। ৫০ হাজার আমেরিকান ভারতীয়র উপস্থিতির এ অনুষ্ঠানে সমমনা দুই জাতীয়তাবাদী নেতাÑ ট্রাম্প ও মোদি পরস্পরকে প্রশংসা-বৃষ্টিতে ভাসান। বক্তৃতায় নিরীহ নাগরিকদের উগ্র ইসলামি সন্ত্রাসবাদের হুমকি থেকে রক্ষা করতে প্রতিজ্ঞার কথা জানিয়ে প্রশংসা কুড়ান ট্রাম্প। বলেন, ‘আমেরিকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ, সবচেয়ে একনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত বন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে এখানে এসে অত্যন্ত রোমাঞ্চিত বোধ করছি।’ আর মোদি হোয়াইট হাউজে ভারতের একজন ‘প্রকৃত বন্ধু’ আছে উল্লেখ করে ট্রাম্পকে ‘উষ্ণ, বন্ধুত্বপূর্ণ, সহজ, সক্রিয় ও অত্যন্ত বুদ্ধিমান’ বলে বর্ণনা করেন।
কাশ্মীর ইস্যুতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ আকর্ষণ করে তিনি বলেন, ‘৩৭০ ধারা উঠে যাওয়ায় জম্মু-কাশ্মীর-লাদাখের মানুষ এখন সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার ভোগ করবে। এ পদক্ষেপ নিজ দেশ পরিচালনায় অক্ষম ও সন্ত্রাসবাদ লালনপালন করছে এমন কিছু ব্যক্তিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে।’ এএফপি জানিয়েছে, কাশ্মীরের বেশির ভাগ অঞ্চলে ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ায় মানবাধিকারকর্মীদের তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছে ভারত। ট্রাম্প ও মোদির বক্তৃতার সময়ও কাশ্মীরকে মুক্ত করার দাবিতে স্টেডিয়ামের সামনে প্ল্যাকার্ড এবং শার্ট হাতে বিক্ষোভ হয় বলে খবর দিয়েছে আল জাজিরা। তারা মোদির বিরুদ্ধে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন। হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভসের দ্বিতীয় শীর্ষ ডেমোক্র্যাট স্টেনি হোয়ার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমেরিকান ও ভারতীয়দের অবশ্যই নাগরিকদের মঙ্গলের জন্য গৃহীত প্রতিশ্রুতি ও আকাক্সক্ষা বাস্তবে পরিণত করার চেষ্টা করতে হবে।’
