গুজবের ভাইরাসই ছড়িয়েছে বেশি

আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২০, ১১:৩৬ পিএম

মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা, ছড়ানোর কারণ, প্রতিষেধক আবিষ্কারসহ নানা বিষয় নিয়ে করোনাভাইরাস এখন বিশ্ব গণমাধ্যমের বড় একটা জায়গা দখল করে আছে। চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৭০ এবং আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৭১১ জন। তবে এ সংখ্যা নিয়ে আছে বিতর্ক আর বিভ্রান্তি। মূলধারার সংবাদমাধ্যম চীন সরকারের তথ্যের বরাতে খবর প্রচার করলেও পশ্চিমা ট্যাবলয়েড সংবাদমাধ্যমগুলো বাড়িয়ে বলছে এসব সংখ্যা, বলছে ছড়ানোর কারণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য। পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ভিডিও ও ফটো দিয়ে ছড়ানো হচ্ছে গুজব। এএফপি বলছে, এসব ভ্রান্ত তথ্য ও গুজব বিশ্বজুড়ে ত্রাসের পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

কয়েক দিন আগেই সাবেক এক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাতে ডেইলি মেইল নামের ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম খবর প্রকাশ করেছিল যে, উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি থেকেই ছড়িয়েছে নতুন এই ‘জীবাণু অস্ত্র’। তবে সেই প্রতিবেদনকে কোনো স্বাস্থ্য সংস্থা এখনো সমর্থন করেনি। এর আগে এ সংবাদমাধ্যমটি বলেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের হপকিনস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গত বছর অক্টোবর মাসেই করোনাভাইরাসে বিশ্বজুড়ে সাড়ে ছয় কোটি মানুষের মৃত্যুর পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে সেই খবরেরও কোনো সত্যতা মেলেনি শেষতক।

এদিকে কিছু সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, নতুন এ ভাইরাসটির পেটেন্ট রয়েছে ব্রিটেনের পিরব্রাইট ইনস্টিটিউটের কাছে। ২০১৫ সালেই করোনাভাইরাসের চিকিৎসার জন্য পেটেন্টের আবেদন করেছিল সংস্থাটি। কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম বলছে, ওষুধ কোম্পানির স্বার্থেই পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হয়েছে ভয়াবহ এ ভাইরাস। এ ষড়যন্ত্রতত্ত্বে পিরব্রাইট ইনস্টিটিউটের সঙ্গে নাম এসেছিল বিল ও মিলিন্দা গেটস ফাউন্ডেশনের নামও। ভ্যাকসিন ডেভেলপমেন্টের জন্য নাকি টাকাও ঢেলেছিল তারা।

ভাইরাসটি ছড়ানোর পেছনে কানাডার উইনিপেগে ন্যাশনাল মাইক্রোবায়োলজি ল্যাব থেকে বহিষ্কৃত চীনা বিজ্ঞানী দম্পতির কথাও উঠে আসছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে, এ চীনা দম্পতি করোনাভাইরাস উহান ল্যাবে পাঠিয়েছিলেন। এক চীনা নারীর বাদুড়ের স্যুপ খাওয়া একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে, চীনের মানুষের খাদ্যের অভ্যাসের জন্যই এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।

কোনো কোনো সংবাদমাধ্যম ভাইরাসটির প্রতিষেধক আবিষ্কার ঘোষণা দিয়েও প্রচার করেছে খবর। এমন পরিস্থিতিতে চীন সরকার বারবার বলছে, গুজবে কান না দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে। একই কথা বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ ট্যাবলয়েড সংবাদমাধ্যমগুলোর বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশে বিরাম নেই।

এমনকি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্ধৃত করে বলেছে, চীন সরকার মৃত্যু ও আক্রান্তের যে সংখ্যা প্রচার করেছে তা সঠিক নয়। তবে সঠিক সংখ্যার নির্ণয়ের মডেল কী তার বিষয়েও কিছু বলেছে নির্ভরযোগ্য এই সাময়িকীটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত