সাধারণত ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের ধরন ও মাত্রা ভিন্ন হয়। সঠিক পরিমাণে এবং পর্যাপ্ত সময় ধরে সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার না করলে ব্যাকটেরিয়াগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয় না কিছুসংখ্যক ব্যাকটেরিয়া জীবিত থাকে এবং উপরন্তু আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তখন এই ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে ওই অ্যান্টিবায়োটিকের আর কোনো প্রভাব থাকে না। আর এভাবেই তৈরি হয় অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স।
ভয়াবহ কেন?
কারও যখন কোনো ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঘটে, তখন চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ওই সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া নির্ণয় করে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে থাকেন। কিন্তু কিছুদিন ওষুধ খাওয়ার পর খানিকটা ভালো অনুভব করলেই অনেকে মনে করেন যে আমি তো ভালো হয়েই গেছি, তাই আর ওষুধ সেবনের প্রয়োজন নেই। ফলে তিনি ওষুধ সেবন বন্ধ করে দেন এবং অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স পূর্ণ করেন না। ফলে কিছুসংখ্যক বেঁচে যাওয়া ব্যাকটেরিয়া ওই অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্যান্সপ্রাপ্ত হয়ে যায় এবং ওই রেজিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়া যখন দেহ থেকে বের হয়ে প্রকৃতিতে যায়, তখন অন্য সাধারণ ব্যাকটেরিয়াগুলোকেও ডিএনএ আদান-প্রদানের মাধ্যমে রেজিস্ট্যান্স করে তোলে। ফলে যে অ্যান্টিবায়োটিক আগে ভালো কাজ করত, তখন তা এসব ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে আর কাজ করে না। এজন্য দেখা যায় যে একই অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে পরে আর রোগ সারে না নতুন কোনো অ্যান্টিবায়োটিক বা ওই অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত মাত্রা ও ডোজের প্রয়োজন দেখা দেয়। কিন্তু যতটা দ্রুততার সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া বুদ্ধিমান হয়ে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতি রেজিস্ট্যান্স হচ্ছে, ততটা দ্রুত কিন্তু নতুন নতুন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হচ্ছে না। সর্বশেষ অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কৃত হয়েছে ১৯৮৭ সালে। এরপর নতুন আর কোনো অ্যান্টিবায়োটিক পাওয়া যায়নি। এতে আমাদের অবস্থা হতে পারে সেই প্রি-অ্যান্টিবায়োটিক যুগের মতোই। পার্থক্য শুধু এই যে, তখন কোনো অ্যান্টিবায়োটিকই পৃথিবীতে ছিল না, আর এখন অনেক অ্যান্টিবায়োটিক থাকা সত্ত্বেও কোনোটাই আর কাজ করবে না।
কারণ
সঠিক মাত্রায় ও সঠিক সময়ব্যাপী সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক না সেবন করলে, অপ্রয়োজনে যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে থাকলে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নিজের ইচ্ছামতো ফার্মেসি থেকে কিনে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করলে দ্রুত অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া বিভিন্ন হাঁস-মুরগি এবং গবাদিপশুকে যথেচ্ছ অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ালেও তাদের মাংসের মাধ্যমে রেজিস্ট্যান্স ব্যাকটেরিয়া মানবদেহে প্রবেশ করতে পারে।
প্রতিরোধ
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক সময়ে সঠিক মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করুন এবং ওষুধের সম্পূর্ণ ডোজ শেষ করুন। ঠাণ্ডা বা সর্দি-জ্বর সাধারণত ভাইরাসের আক্রমণে হয়ে থাকে। আর ভাইরাসের ওপর অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ করতে পারে না। তাই ঠাণ্ডা লাগলে বা সর্দি-জ্বর হলেই ফার্মেসি থেকে কিনে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া শুরু করবেন না। অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স একটি মহাবিপর্যয়, যা একবার হয়ে গেলে আর উপায় নেই। তাই সময় থাকতে আজই সাবধান হোন এবং ঝুঁকিহীন জীবনযাপন করুন। অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের ব্যাপারে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।