দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারামুক্তির তিন বছরে সোমবার সারা দেশে সমাবেশ করেছে বিএনপি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারা ও লন্ডনে অবস্থানরত দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা চান।
একই সঙ্গে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে ও তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংগঠন গুছিয়ে অচিরেই মাঠে নামার ঘোষণা দেন মির্জা আব্বাস।
এদিকে কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরায় প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আলজাজিরার প্রতিবেদন যে মিথ্যা তা প্রমাণ করুন, আমরা আপনাদের সহযোগিতা করব।’
বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিতে সকাল থেকে রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও থানা থেকে নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আসতে থাকেন। তারা খালেদা জিয়ার ছবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করে তার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘শুধু একটি কথা বলতে চাই, খালেদা জিয়া সারা জীবন বন্দী থাকবেন এমন কথাও বলছি না। আজকের এই প্রতিবাদ সমাবেশ বা মানববন্ধন প্রমাণ হয়েছে-তিলে তিলে এই বন্ধন বড় হবে খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, দলকে সুন্দরভাবে সুগঠিত করে ইনশা আল্লাহ অচিরেই আমরা মাঠে নামব, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানকে আমরা দেশে ফিরিয়ে আনব।’
এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা যদি গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে চাই তাহলে আমাদের যুদ্ধে শামিল হতে হবে, সেই যুদ্ধ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াই হবে। সেই যুদ্ধ স্লোগানের মধ্য সীমাবদ্ধ না। সেই যুদ্ধ শুধু আমাদের নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা না করে দেশের স্বার্থে, গণতন্ত্রের স্বার্থে খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে হবে। তিনি মুক্ত হলে গণতন্ত্র মুক্তির সূচনা হয়, খালেদা জিয়া মুক্ত হলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিদেশে মাটিতে থাকতে হয় না। বাংলাদেশের এসে জনগণের নেতৃত্ব দিতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘সেই কারণে বলছি, বারবার বলছি, সিদ্ধান্ত নিতে হবে, বারবার বলছি, আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে কোনোভাবে রাজপথ ছাড়ব না। আমাদের কথায় নয়, কাজে প্রমাণ করতে হবে। আমাদের রাজপথ দখলে নিতে হবে এবং সকল পথঘাট আজকে জনগণের দখলে নিতে হবে। ক্ষমতাসীন এই দুর্নীতিবাজ, ঠকবাজ, প্রতারক সরকার ঘর থেকে যাতে বেরোতে না পারে সেই পথ তৈরি করতে হবে।’
গয়েশ্বর বলেন, ‘আর ঘরে বসে বসে আবোল-তাবোল প্রতিদিনই তারা কথাই বলছে। অবজ্ঞা-তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য মানুষকে অসম্মান করে কথা বলা-এটা তাদের রোগে পরিণত হয়েছে। কারণ জনগণের ভোট যাদের দরকার হয় না, জনগণের সমর্থন যাদের দরকার হয় না তাদের মুখ থেকে এটাই মানানসই কথা।’
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেলের সভাপতিত্বে ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশারের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, আবদুস সালাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদসহ বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতারা।
