বাগেরহাটে গত ২৪ ঘণ্টার নমুনা পরীক্ষায় ৬১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ১৫৫টি নমুনা পরীক্ষায় ৬১ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়। জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণের হার প্রায় ৩৯ শতাংশ।
জেলার সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মোংলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় ২৬ জনের পজিটিভ হয়েছে।
মোংলায় সংক্রমণের হার ৬৮ শতাংশ। যা গতদিনের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। (গতকাল বুধবার ভোর ছয়টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ছয়টা পর্যন্ত)
বাগেরহাটে সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়লেও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা নেই। জনসমাগমের কেন্দ্রস্থল হাট বাজারগুলোতে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। তারা না পরছেন মুখে মাস্ক না মানছেন শারীরিক দূরত্ব। এতে সংক্রমণের হার আরও বাড়বে বলে ধারণা করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে, জেলার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মোংলা উপজেলায় প্রশাসনের কঠোর বিধিনিষেধ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
গত ৩০ মে থেকে মোংলায় কঠোর বিধিনিষেধ চলমান রয়েছে।
অনেকেই অভিযোগ করেন, বাগেরহাটে করোনা সংক্রমণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। হাটবাজারে আসা সাধারণ মানুষ ও বিক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে কেনাকাটা করছেন। এভাবে চললে সংক্রমণ আরও বাড়বে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান তারা।
বাগেরহাট সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ও করোনাভাইরাসের তথ্য কর্মকর্তা সুব্রত দাস বলেন, বাগেরহাটে সংগ্রহ করা ১৫৫টি নমুনার মধ্যে ৬১টি পজিটিভ হয়েছে। জেলায় আক্রান্তের হার ৩৯ শতাংশ। সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মোংলা উপজেলাতে সংক্রমণের হার ৬৮ শতাংশ। যা গত ২৪ ঘণ্টার তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।
মোংলা উপজেলায় প্রতিদিন সংক্রমণের হার ওঠানামা করছে। বাগেরহাটে করোনা সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক।
জনসমাগমের স্থলগুলোতে মানুষের স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব এখনো রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলছে সংক্রমণের হার আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান বলেন, বাগেরহাটের সব উপজেলাতেই সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে মোংলায় সংক্রমণের হার সবচেয়ে বেশি। গত ১৫ দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী। এ কারণে মোংলাতে আগামী ১৬ জুন পর্যন্ত চলমান কঠোর বিধিনিষেধ বাড়ানো হয়েছে।
