আয়ারল্যান্ড ও ব্রিটেনের মধ্যে নানান জটিল সমীকরণ রয়েছে। দুই অঞ্চলের মাঝে বাধা হয়ে থাকা আইরিশ সাগরের সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের দৈর্ঘ্য মাত্র ১২ কিলোমিটার। কিন্তু এ পথ গভীর ও ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ। সে দিক থেকে যুক্ত হতে চায় দুই ভূখণ্ড। খবর সিএনএন।
গত একশ’ বছর ধরে আয়ারল্যান্ডের উত্তরপূর্ব অঞ্চল গ্রেট ব্রিটেন ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের অংশ। বর্তমানে দুই অঞ্চলের যোগাযোগ উন্নত করতে সেতু বা টানেলের চিন্তা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। এ নিয়ে সমীক্ষার ফলাফল জানা যাবে গ্রীষ্মের শেষ দিকে।
যদিও এ ধরনের পরিকল্পনা নতুন নয়। তবে নতুন করে এ আলোচনায় হাওয়া লাগে যখন ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এ বিষয়ে সমর্থন দেন ও স্কটিশ স্থপতি অ্যালান ডানলপ একটি রেল ও সড়ক সেতুর নকশা উন্মোচন করেন। ওই নকশা মতে, সেতুটি হবে স্কটল্যান্ডের পোর্টপ্যাট্রিক থেকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের লার্নে পর্যন্ত। তবে সম্ভাব্য কিছু পথ নিয়ে পর্যালোচনা হচ্ছে সমীক্ষায়।
আইরিশ সাগরের এ অংশ সংকীর্ণ হলেও ভূতাত্ত্বিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে প্রকৌশলীদের সামনে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রকৌশলের ইতিহাসে কারিগরি দিক থেকে এটা অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হতে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত অর্থনীতি, অবকাঠামো ও স্থানীয় রাজনীতির নানান হিসেব-নিকেশ। আছে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কের বিচারও।
এরই মধ্যে ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে ওয়েস্ট মিনিস্টারের এ পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে স্থানীয় রাজনীতিবিদরা। যেমন; স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোল স্টারজনের মতে, ‘আসল ইস্যু’ থেকে মুখ ঘোরানার চেষ্টা এটি। অন্যদিকে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সিন ফিনের উপনেতা মিচেল ও’নিলের ‘পাইপ ড্রিম ব্রিজ’ বলে উল্লেখ করেন।
বলা হচ্ছে, ইউরোপের মধ্যে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়া যুক্তরাজ্যে এ সময়ে সেতু গড়ার চেয়ে ধ্বংসের দুর্নাম রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সেতু বা টানেল যা-ই হোক, তা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এ পরিকল্পনায় অন্যতম বাধা। সর্বশেষ হিমবাহ যুগের ৫০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের প্রাকৃতিক পরিখা রয়েছে এখানে। সাগরের গড় গভীরতা ১৫০ মিটারের মতো, আর সর্বোচ্চ স্থানে দ্বিগুণ। যা আইফেল টাওয়ারকে ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এ ছাড়া এখানে রয়েছে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় ভাগাড়। লাখ লাখ টন অব্যবহৃত গুলি, রাসায়নিক অস্ত্র ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রয়েছে সেখানে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে মধ্য সত্তরের দশক পর্যন্ত এ কাণ্ড ঘটিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
পরিত্যক্ত অস্ত্রের পাশাপাশি এ সাগরের কুখ্যাতি বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে এ প্রকল্পকে। রুক্ষ সাগর, শক্তিশালী স্রোত এবং আইরিশ ও স্কটিশ অনিশ্চিত আবহাওয়া এর বড় কারণ। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, এ সংযোগ অসম্ভব নয়, তবে কঠিন।
