সুনামগঞ্জে অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

আপডেট : ১৬ জুন ২০২২, ১২:২৩ এএম

গেল কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে দ্বিতীয় দফা বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পানি প্রবেশ করেছে শহরের বিভিন্ন এলাকায়। গতকাল বুধবার সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে এরই মধ্যে প্লাবিত হয়েছে সুনামগঞ্জ সদর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতকসহ পাঁচটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন অর্ধ লক্ষাধিক মানুষ।

বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক এবং সুনামগঞ্জ-ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের কাজির পয়েন্ট, উকিলপাড়া, সাহেববাড়ি ঘাট, উত্তর আরপিননগর, পুরানপাড়া, বড়পাড়া এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটছে।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সৃষ্ট বন্যায় কুড়িগ্রামের রৌমারীতে এখনো পানিবন্দি প্রায় ৪০ হাজার মানুষ। রাস্তাঘাট তলিয়ে যোগাযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এ অঞ্চলের মানুষ। পর্যাপ্ত নৌকা না থাকায় কলাগাছের ভেলায় করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন শিশু-কিশোর ও বয়স্করা। মাঠে থাকা খড় বন্যায় ভেসে যাওয়ায় গোখাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে উপজেলাজুড়ে।

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, ২ হাজার ৬৩ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত রয়েছে। যার মধ্যে আছে ভুট্টা, তিল, পটোলক্ষেতসহ আউশ ব্রি-৪৮ ধান।

বালুরচর গ্রামের কৃষক আবদুস সালাম বলেন, ‘৪০ হাজার টাকা খরচ করে ৫ বিঘা জমিতে আউশ ব্রি-৪৮ লাগাইছি। হঠাৎ বন্যায় সেই জমি ডুবে পচে গেছে সব ধান! না পেলাম খড়, না পেলাম ধান! এখন আমার বছরের বাকি দিন যাবে কীভাবে?’

পাহাড়তলী গ্রামের জমিলা বেগম বলেন, ‘বন্যা শুরু হলে আমাদের কষ্টের সীমা থাকে না। বাড়ির চারদিকে পানি থইথই করছে। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাউয়ুম চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি এবং সার, বীজ ও প্রণোদনার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে অবগত করা হবে।

এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গতকাল বৃদ্ধি পেয়ে কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের পোড়ারচর ও পূর্ব তিনহাজারী গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন।

সদরের যাত্রাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল গফুর বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের দুটি গ্রামে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।’

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ‘দুর্যোগকবলিত এলাকার জন্য তিন লাখ টাকার গোখাদ্য ও শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করেছি। এগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে বিতরণ করা হবে।’

কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, কুড়িগ্রামে এখনো সব নদ-নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত