ছবিতে দেখুন গাজাবাসীদের জন্য লঙ্কানদের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:০৩ পিএম

শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর একটি ছিমছাম রেস্তোরাঁ ‘ডলসি ফালাস্টিন’। এমনিতে বেশ নিরব পরিবেশ দেখা যায় এখানে, কিন্তু গত রবিবার ফালাস্টিন রেস্তোরাঁয় যেন পা ফেলার জায়গা ছিল না। কারণ এ দিন ফিলিস্তিনের গাজার মানুষদের সহায়তা করতে এখানে এক মেলার আয়োজন করেছিলেন সমমনা উদ্যোক্তারা।   

নিজ নিজ পণ্য সম্ভার নিয়ে তারা হাজির হয়েছিলেন এ মেলায়। তহবিল সংগ্রহ অভিযানে নামাদের বড় একটি অংশই শ্রীলঙ্কার মুসলিম নারী উদ্যোক্তারা।

নিজের তৈরি রিস্টব্যান্ড ক্রেতাকে পরিয়ে দিচ্ছেন মুমিনা হিলমে

গাজায় মানবিক সহায়তা দিতে এই তহবিল সংগ্রহের আহ্বায়ক প্রসাধনী ব্যবসায়ী নারী উদ্যোক্তা আইশা আলতাফ (২৪)। তিনি চেয়েছেন তার মতো উদ্যোক্তারা যেন নিজেদের ব্যবসার আয় থেকে ১০ শতাংশ গাজার মানুষের জন্য দান করেন। তার আহ্বানে এতোই সাড়া মিলেছে যে মেলায় নিজেদের পণ্য বিক্রির পুরো টাকাই গাজার মানুষের জন্য দান করে দিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

ফিলিস্তিনি পতাকার রঙে রিস্টব্যান্ড, চাবির রিং তৈরি করে মেলায় এনেছেন ১৪ বছর বয়সী মুমিনা হিলমে

আলজাজিরাকে আইশা বলেন, ‘গাজার বীভৎসতা দেখে নিজে একধরণের অপরাধবোধে ভুগেছি, কারণ সেখানে মানুষ যখন মরছে, খাবার এমনকি পানির জন্য হাহাকার করছে তখন আমি কত শান্তিতে বিছানায় ঘুমাচ্ছি।’

এই নারী উদ্যোক্তা বলেন, ‘আমরা গাজাবাসীকে তহবিলের টাকা দিয়ে অল্প হলেও গরম খাবার সরবরাহ করতে চাই, সামনে শীত আসছে। বাচ্চাদের জন্য শীতের পোশাকও দিতে চাই। বিশেষ করে আগ্রাসনে ঘরবাড়ি হারিয়ে যারা রাস্তায় থাকছে তাদের জন্য কিছু করতে চাই।’  

মেলায় শিশুদের স্টেশনারি সামগ্রীর স্টল

গাজার জন্য আইশাদের উদ্যোগে শামিল হয় ১৯৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত মানবিক সংস্থা আফ্রিকান মুসলিমস এজেন্সি। তারাই তহবিল থেকে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেবে। এখন পর্যন্ত গাজার জন্য ২১ লাখ শ্রীলঙ্কান রূপি সংগ্রহ করেছে তারা। বাংলাদেশি টাকায় যা মাত্র ৭ লাখ হলেও অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে মাত্রই ঘুরে দাঁড়াতে থাকা লঙ্কানদের এই প্রচেষ্টাকে বড় করে দেখতেই হয়।

মেলায় নারী-শিশু দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল লক্ষ্য করার মতো

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার অজুহাতে গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েল। দেড় মাসের এই অভিযানে প্রায় ধূলিসাৎ হয়ে গেছে উত্তর গাজা। প্রায় ১৫ হাজার ফিলিস্তিনিকে হত্যার পর গাজায় যুদ্ধবিরতি চলছে। ওষুধ, খাবার, পানি সব দিকে চরম সংকটে এখন গাজাবাসী। সম্প্রতি বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিশ্বসম্প্রদায় গাজার মানুষের পাশে না দাঁড়ালে নতুন এক মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত