ক্ষমতা থাকলে নীলক্ষেত বই মার্কেটকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করতাম!

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:২৪ এএম

যদি একুশে পদক প্রদানের ক্ষমতা আমার থাকত, তাহলে বহু আগেই আমি নীলক্ষেত বই মার্কেটকে একুশে পদক দিয়ে নিজেদের সম্মানিত করতাম। 

৬০, ৭০, ৮০ এবং ৯০ দশকে বুয়েটে, মেডিকেলে, ডেন্টালে, ঢাবি, জাবি, রাবি, চবিতে অধ্যয়ন করা মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত পরিবারের মেধাবী এবং জ্ঞান পিপাসু শিক্ষার্থীদের কাছে নীলক্ষেত বইয়ের বাজার ছিল তীর্থস্থান। এই বইয়ের বাজারটি না থাকলে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অসম্পূর্ণ থেকে যেত। সস্তায় প্রয়োজনীয় পুরোনো বই এবং সব ধরনের দুর্লভ বইয়ের আর কোন উৎস তখন দেশে ছিল না।  

ছোট বেলায় সিনেমায় প্রায়ই দেখতাম গরিব ঘরের মেধাবী ছেলেটি ডাক্তারি পড়ার খরচ জোগানোর জন্য বড়লোকের মেয়েকে বিয়ে করতো । তখন ভাবতাম সরকারি মেডিকেলে পড়তে এত খরচ লাগবে কেন! পরে নিজ অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি কেন এত ব্যয়বহুল। তখন মেডিকেল, প্রকৌশল শিক্ষার বই আসত লন্ডন, আমেরিকা, জার্মান থেকে। সে সব বইয়ের দাম ছিল আকাশছোঁয়া। তাও একটি দুটি নয়, কয়েক ডজন বই লাগতই। সব মিলিয়ে সেসময়ের লাখটাকার মামলা। সে সব পুরোনো বই একসময় নীলক্ষেতে সস্তায় মিলতো।  

আর এখন ওই জরুরি বই ফটোকপির কালার প্রিন্টে, ঝকঝকে চমৎকার বাঁধাইয়ে নীলক্ষেতে পাওয়া যায়। বিদেশি মূল পাবলিকেশনের অরিজিনাল প্রিন্টের যে বই নীলক্ষেতে এখন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা সে একই বইয়ের নীলক্ষেত ভার্সনের দাম ৮শ থেকে ৯শ টাকায় মিলে। 

যারা একুশে পদকের সিলেকশন কমিটিতে থাকেন তারাও চোখ বন্ধ করলে নীলক্ষেতের কাছে তাদের ঋণের গভীরতা টের পাবেন। আমি বললাম বলে না, আপনি যদি মেডিকেল, বুয়েট, ঢাকা, রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর, চট্টগ্রামসহ সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পেরোনো মানুষ হন, অথবা সাহিত্য, ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, ভ্রমণ কিংবা রহস্য উপন্যাসের দিকপাল লেখকদের বইয়ের পাঠক হন, আর কমদামে সেসব কিনতে চান তাহলে নীলক্ষেত বই মার্কেট এখনো আপনার কাছে অপরিহার্য।

যে মার্কেট টানা ৫০/৫২টি বছর বইয়ের আঁতুড় ঘর হিসেবে জাতির মেধা, জ্ঞানের পেছনে অবদান রাখল সেই মার্কেট অবশ্যই একুশে পদক পাওয়ার যোগ্য। দাবিটা করে নীলক্ষেতের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতাটা জানিয়ে রাখলাম।

লেখক: শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত