সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ইতিকাফের পরিচয়, উদ্দেশ্য ও প্রকারভেদ

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২৪, ০৫:৩৫ পিএম

ইতিকাফ আরবি শব্দ। যার অর্থ অবস্থান করা, অভিমুখী হওয়া, নিবেদিত হওয়া, নিরবচ্ছিন্ন হওয়া ইত্যাদি। পরিভাষায় ইতিকাফ হলো, আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশে দুনিয়ার যাবতীয় ব্যস্ততাকে গুটিয়ে এমন মসজিদে অবস্থান করা, যেখানে জামাতের সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা হয়।

ইতিকাফ তিন প্রকার: এক. সুন্নত ইতিকাফ। রমজানের একুশ তারিখ রাত (অর্থাৎ ২০ তারিখ সূর্যাস্তের পূর্ব) থেকে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত ইতিকাফ করা। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রতি বছর এ দিনগুলোতে ইতিকাফ করতেন, এ ধরনের ইতিকাফকে সুন্নাতে মুয়াক্কাদায়ে কিফায়া বলা হয়। গ্রাম বা মহল্লাবাসীর পক্ষে কোনো এক বা একাধিক ব্যক্তি এই ইতিকাফ করলে সবার পক্ষ থেকে তা আদায় হয়ে যাবে।

দুই. নফল ইতিকাফ। রমজানের শেষ দশকে পূর্ণ দশ দিনের কম ইতিকাফ করা। অথবা বছরের অন্য যেকোনো সময় যতক্ষণ ইচ্ছা, ইতিকাফের নিয়তে মসজিদে অবস্থান করা।

তিন. ওয়াজিব ইতিকাফ। মান্নতকৃত ইতিকাফ এবং সুন্নত ইতিকাফ ফাসেদ হয়ে গেলে তার কাজা আদায় করা ওয়জিব।

ইতিকাফের গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা হলো, এর মাধ্যমে লায়লাতুল কদর লাভ করার সম্ভাবনা বেশি থাকে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অন্বেষণ করো।’ -সহিহ বুখারি : ২০২০

ইতিকাফের মূল উদ্দেশ্যের মধ্যে এটাও একটি যে, এর মাধ্যমে লাইলাতুল কদর সন্ধান করা হবে। তাছাড়া আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য লাভ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো ইতিকাফ। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ইতিকাফকারী অত্যন্ত পবিত্র ও গুনাহমুক্ত পরিবেশে থাকে এবং দুনিয়ার যাবতীয় ব্যস্ততা থেকে মুক্ত হয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে এখানে তার অবস্থানটিই একটি ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়। তাই সে অবসর সময়ে কোনো আমল না করলেও দিনরাত তার মসজিদে অবস্থান করাটাই ইবাদত।

ইতিকাফকারীর ওপর আলাদা কিছু বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেওয়াও কর্তব্য। তা হলো, মসজিদের যাবতীয় আদব রক্ষা করে চলা, দুনিয়াবি কাজকর্ম থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা। অহেতুক ও অযথা কথা না বলা ইত্যাদি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত