হোটেল ম্যানেজমেন্টে পড়াশোনা শেষে, ২০১৪ সালে চ্যানেল আইয়ের ‘ইমামি ফেয়ার হ্যান্ডসাম’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন আদর আজাদ। প্রথম চলচ্চিত্র ‘তালাশ’-এ একজন রকস্টার চরিত্রে অভিনয় করে নজর কাড়েন। ঈদে মুক্তি পেয়েছে তার চলচ্চিত্র লিপস্টিক। চলচ্চিত্র ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে এই অভিনেতার মুখোমুখি হয়েছেন মাহতাব হোসেন
আপনার ঈদের সিনেমা লিপস্টিক কেমন ব্যবসা করছে?
খুবই ভালো ব্যবসা করছে। ঈদে মাত্র ৭টি হলে মুক্তি পেয়েছিল, তৃতীয় সপ্তাহে এসে চার গুণের বেশি হল পেয়েছে, ৩১টি প্রেক্ষাগৃহে চলছে ছবিটি। দর্শকদের যেভাবে সাড়া পাচ্ছি, আশা করছি ব্যবসায়িকভাবেও লাভবান হতে হচ্ছি।
ছবি মুক্তির আগে হল নিয়ে রাজনীতির শিকার হয়েছেন এমন অভিযোগ শোনা গিয়েছিল, বিষয়টি আসলে কী?
রাজনীতি আসলে প্রত্যেকটি পরিবারেই থাকে। সেখান থেকে হয়তো একটা পর্যায়ে শিকার হয়তো হয় কেউ। আবার সমাধানও হয়। আপনার কাজ দিয়ে, আপনার যোগ্যতা দিয়ে, আপনার কনটেন্ট দিয়ে। এ বিষয়ে আর নতুন কিছু নেই। এর আগে যতটুকু বলেছি, হলসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সবার কাছে এর উত্তর পরিষ্কার হয়ে গেছে।
লিপস্টিকের গল্প চুরি হয়েছে, এমন একটা অভিযোগ ছিল বিষয়টি আসলে কী?
যে ছবিটার কথা বলেছি, যখন ছবিটা মুক্তি পাবে তখনই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমরা অনুমান করে বলতেই পারি, তবে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি না যে একই চিত্রনাট্যে কাজ হয়েছে। ছবিটা মুক্তি পাওয়ার পর দর্শকরা দেখতে পারবে, বুঝতে পারবে কিংবা সবাই অনুধাবন করতে পারবে।
এই সিনেমায় লগ্নির জন্য মায়ের গয়না বিক্রির কথা শুনেছিলাম বিষয়টি নিয়ে বলুন।
আমি এই পর্যন্ত চারটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছি। তালাশ, লোকাল, যাও পাখি বলো তারে ও লিপস্টিক। যেহেতু এটা আমি একটা বিজনেস ট্রেন্ড হিসেবে নিয়েছিলাম। মনে করি এখানে ব্যবসা হবে, ব্যবসা হয়। কিন্তু যখন ছবির বাজেট বেড়ে গেল, পরিবার এমন একটা জায়গা যেখান থেকে আমরা মানসিক শান্তি পেয়ে থাকি। তো এটায় আমার পরিবারের একটা সমর্থন ছিল। মা যেহেতু পরিবারের ভরসার জায়গা; সেহেতু মায়ের অর্থায়ন হয়েছে, আর সেখান থেকে এই ছবিটার প্রতি বিশেষ আবেগ মিশেছে।
কুশলীদের পেমেন্ট নিয়ে ঝামেলার কথা শোনা যায়, আপনার সিনেমার সবাই ঠিকঠাক পেমেন্ট পেয়েছে?
এর আগে আমার সিনেমায় যারাই কাজ করেছে, তারা ঠিকঠাক পারিশ্রমিক পেয়েছে, চাইলে আপনি খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। এই ছবিতেও সবাই পেয়েছে, নব্বই ভাগ সব দিক থেকে পরিশোধ আছে। আর আমি সব সময় একটা সমর্থন পেয়ে থাকি আমার ইউনিট থেকে, যারা মেকআপ আর্টিস্ট, ক্রু আছেন, লাইট, কোরিওগ্রাফার সবাই আমাকে সমর্থন করে। আর এই ছবিটা সবার সমর্থনেই হয়েছে। তাই এমন কোনো রেকর্ড আমার নেই। যারা চলচ্চিত্রের সঙ্গে যুক্ত তারা জানে আমি মানুষটা কেমন। সবার পেমেন্ট ঠিকঠাক হয়েছে, যতটুকু বাকি আছে সেটা মেজর নয়, সামান্য বাকি আছে এটা পর্যায়ক্রমে দিয়ে দেব।
লিপস্টিক সিনেমার বিশেষত্ব কী? কেন দেখতে যাবে মানুষ?
লিপস্টিকে যেমন অনেকগুলো রঙ ও অনেকগুলো ছায়া আছে, তেমনই গল্পেও অনেকগুলো ছায়া আছে। একদমই আধুনিক একটা ছবি। এটা পুরোটাই একটা বিনোদন প্যাকেজ। যারা চলচ্চিত্র দেখেন তারা আসলে আনন্দিত হবেন। আমাদের উদ্দেশ্যই হচ্ছে তাদের বিনোদিত করা। পয়সা উশুল সিনেমা।
শাকিবের পরই আদর আজাদ এমন আত্মবিশ্বাস রয়েছে কি?
আমার নিজের পারফরম্যান্সের ওপর আত্মবিশ্বাস আছে। একতা গল্পের চরিত্রের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ও ওই চরিত্রকে পরিচালকেরত নির্দেশনায় ফুটিয়ে তোলার আত্মবিশ্বাস আছে। বাকিটা আসলে দর্শকরা বলবে আমি চরিত্রটা হতে পেরেছি কি না। আমাকে যতগুলো চরিত্র দেওয়া হয়েছে, প্রত্যেকটি চরিত্র হয়ে উঠতে পেরেছি এটা আমার আত্মবিশ্বাস। আর বাকিটা দর্শকদের চাহিদার ওপর নির্ভর করবে। আমার চাওয়াটা আসলে অনেক বড়। আমার আত্মবিশ্বাস আছে, যদি ঠিকঠাকমতো প্রজেক্ট করতে পারি, লেগে থাকতে পারি তাহলে এক দিন ভালো কিছুই হবে। আল্লাহতায়ালা কাউকেই খালি হাতে ফেরায় না। আমার চেষ্টাও বৃথা যাবে না।