ইংল্যান্ডে যখন গ্রীষ্ম আসে, তখন আকাশ ছেয়ে যায় নীল রঙের চাদরে। হেসে ওঠা প্রকৃতিতে তখন কমে শীতের প্রকোপ। আর এমন সময়টাতেই আয়োজন করা হয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টগুলো। বিশ্বে যা ‘সামার ক্রিকেট’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশও যেন সেই নিয়মটাই অনুসরণ করে। আর তাই তো ছেলেদের ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগ আয়োজিত হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহের সময়টাতে। দেশের আবহাওয়ায় এখন অতি তাপমাত্রা নেই। তবে কখনো নীল আকাশ ছেয়ে যায় কালো মেঘে। যেকোনো সময় নামতে পারে বৃষ্টি। আর সেই শঙ্কা মাথায় নিয়ে ১৭ মে থেকে শুরু হচ্ছে মেয়েদের ডিপিএল। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হবে। ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই সময়েই হবে মেয়েদের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। খেলা শুরু হতে বাকি আর মাত্র ৫ দিন। ইতিমধ্যে দল গুছিয়েও আনা হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে প্রস্তুতি শুরু করতে পারেনি কোনো ক্লাব। আর তাই হতাশা ঝরে পড়ল কোচ ও ক্রিকেটারদের কণ্ঠে। আবাহনীর কোচ দীপু রায় চৌধুরীর কণ্ঠেও ফুটে উঠল হতাশা। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমার গায়ে দেখুন অনুশীলন কিট পরা আছে। কিন্তু আমি অনুশীলন করতে পারছি না। কারণ বৃষ্টিতে মাঠ ভেজা। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা হয়তো খেলার মধ্যে ছিল। কিন্তু বাকিরা তো দীর্ঘদিন ধরে মাঠের বাইরে। তাই কিছুটা শঙ্কায় আছি টুর্নামেন্টের আগে।’ প্রতিযোগিতাটা বৃষ্টির মৌসুমে আয়োজন না করে শুকনো মৌসুমে করার আহ্বান জানিয়েছেন ৬৯ বছর বয়সী এই কোচ। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘ক্রিকেটারদের আয়ের উৎস এই প্রতিযোগিতাটা। সবার ভাগ্য হবে না ঠিকই, তবে যারাই দল পাবে, তারা যেন খেলতে পারে। সে জন্য আমার অনুরোধ থাকবে বিসিবির প্রতি, এটা যেন শীতের মৌসুমে আয়োজন করা হয়। তাতে করে দুটো সুবিধা হবে। যারা প্রিমিয়ার লিগে দল পাবে না, তারা অন্তত প্রথম বিভাগ ক্রিকেটে খেলতে পারবে। খেলার পথ একটা বন্ধ থাকলেও অন্যটা খোলা থাকবে।’ প্রতিযোগিতাটিতে একবার মাত্র চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আবাহনী। অথচ ছেলেদের ক্রিকেটে একচেটিয়া সাফল্য পায় তারা। মেয়েদের ক্রিকেটেও এমন দাপুটে হতে চায় ধানমন্ডির ক্লাবটি। তাই এবার কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে দীপু রায় চৌধুরীকে। তিনি একসময় আবাহনীতেই খেলতেন। দলটির অধিনায়কও ছিলেন তিনি।
এবারই প্রথমবার নিজের ক্লাবের কোচ হচ্ছেন তিনি। ছেলেদের আবাহনী দলে থাকা প্রায় সব ক্রিকেটারই জাতীয় দলের থাকেন। যাদেরই নেওয়া হয় অন্তত জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা আছে তাদের। মেয়েদের আবাহনীতে জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ ভারত সিরিজে খেলেছেন এমন ৫ ক্রিকেটার আছেন ৫ জন স্বর্ণা আক্তার, শরিফা খাতুন, নাহিদা আক্তার, দিলারা আক্তার, রুবায়া হায়দার ঝিলিক। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা পেসার জাহানারা আলম ও সানজিদা আক্তার মেঘলাও খেলছেন। তাদের নিয়ে একটা ভারসাম্যপূর্ণ দল গঠন করা হয়েছে বলেই দাবি দীপুর, ‘আমাদের সেরা একটি দল হয়েছে। ব্যাটে-বলে ভারসাম্য আছে।
জাতীয় দলের পাশাপাশি বাইরে বয়সভিত্তিক দল থেকেও আছেন কয়েকজন। অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের মিশেলে গড়া দলটিকে নিয়ে আমরা আশাবাদী। এবার চ্যাম্পিয়নের লক্ষ্য নিয়েই আমরা খেলতে নামব।’ নবাগত আনসার অ্যান্ড ভিডিপি শুরুর আসরেই চমক দেখিয়েছে। তারা দলে ভিড়িয়েছে জাতীয় দলের ৪ ক্রিকেটারকে। সুলতানা আক্তার, রিতু মনি, ফাহিমা খাতুন, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা। বর্তমানে জাতীয় দলের বাইরে থাকা শারমিন আক্তার সুপ্তাকেও দলে নিয়েছে তারা। গতকাল শুরু হয়েছে দলবদল, চলবে আজও। এবারের আসরে নতুন দুই দল জাবিদ আহসান সোহেল ক্রিকেট ক্লাব ও আনসার অ্যান্ড ভিডিপি। বাকি দলগুলো হলো রূপালী ব্যাংক, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, কলাবাগান ক্রীড়া চক্র, আবাহনী, খেলাঘর সমাজকল্যাণ সংঘ, বিকেএসপি, গুলশান ইয়ুথ ক্লাব ও সিটি ক্লাব