আমাদেরও প্রিয়জনের সান্নিধ্যে থাকতে মন চায়

আপডেট : ১৮ জুন ২০২৪, ০৮:১৯ এএম

ঈদের ছুটিতে কর্মস্থল ছেড়ে সবাই যখন পরিবার পরিজন নিয়ে ঈদ করতে ব্যস্ত তখন একদল মানুষ কর্মস্থলে সেবা দিতে ব্যস্ত। চিকিৎসক, নার্স ও মেডিকেল স্টাফ, পুলিশ, আনসার, ফায়ারসার্ভিস, গণমাধ্যমকর্মী, ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মীসহ আরও বেশ কিছু মানুষের সময় কাটছে কর্মস্থলে।

রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় একটি বেসরকারি ব্যাংকের বুথের নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত মোজাম্মেল আলীর সঙ্গে। তার বাড়ি দিনাজপুরের ফুলবাড়িয়ায়। 

সোমবার (১৭ জুন) তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সকালে ঈদের জামাত শেষেই প্রথমে মায়ের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেছি, এরপর স্ত্রীর সঙ্গে কথা বললাম। ঈদের পর ছুটি পেলে বাড়িতে যাব বলে তাদের আশ্বাস দিয়েছি। ঈদে ব্যাংক বন্ধ থাকে ফলে মানুষ এটিএম বুথে বেশি লেনদেন করে তাই এ সময় আমাদের চাপ বেশি থাকে। আমরা যাঁরা ঈদে দায়িত্বে আছি, আমাদেরও প্রিয়জনের সান্নিধ্যে থাকতে মন চায়। কিন্তু কাজ না করলে দায়িত্ব পালন না করলে চাকরি থাকবে না, পরিবার চালাবো কীভাবে। 

ঈদের ছুটি থাকলেও সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা কাজ করছেন শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে। কোরবানির বর্জ্য অপসারণের সঙ্গে জড়িত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সব কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিলের ঘোষণা আগেই দিয়েছিলেন সংস্থাটির মেয়র আতিকুল ইসলাম। 

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটি পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৪টি ওয়ার্ডের কোরবানির পশুর শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। অপরদিকে দক্ষিণ সিটি জানিয়েছে, বিকেল পাঁচটার মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৬টি ওয়ার্ডের শতভাগ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে।

পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফরিদা বলেন, আমাদের নিয়োগের সময় ই বলা হয়েছিল জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো সময় ছুটি বাতিল হতে পারে। আমদের হাতে পুরো শহরের পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব। কর্তব্যের খাতিরে তো আসতেই হবে। মেয়েটা ঘুম থেকে উঠে একটু কান্না করছিল। পরে ওরে খাওয়া দাওয়া করাইয়া দাদীর কাছে রেখে আসছি। 

রাজধানীর একটি বাড়িতে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্বে রয়েছেন ফজর আলী। তারও ঈদ কেটেছে কর্মস্থলে। ঈদ কেমন কাটলো এমন প্রশ্নে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই সময়ে বাসার অনেকেই দরজা তালা দিয়ে গ্রামে চলে যায়, পাশাপাশি মহল্লায় ও মানুষ কম থাকে। তাই আমাদের সতর্ক পাহারায় থাকতে হয়। বাড়ি যেতে না পেরে খারাপ লাগলেও ঈদের দিন মন্দ কাটেনি আমার। বাড়িওয়ালা কোরবানির মাংস দিয়েছেন পরিবারের জন্য তা ফ্রিজে রেখে দিয়েছি। আরেক ভাড়াটিয়া আমাকে বাসায় ডেকে নিয়ে খাওয়া দাওয়া করিয়েছেন, বখশিশ দিয়েছেন। এই কয়েকদিন আমাকে তার বাসায় খাওয়া দাওয়া করতে বলেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত