রাশিয়ার প্রয়াত বিরোধীদলীয় নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির স্ত্রী ইউলিয়া নাভালয়ানার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে মস্কোর একটি আদালত। চরমপন্থার অভিযোগে এ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তাস নিউজ এজেন্সির বরাতে বুধবার এ খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
তাস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বর্তমানে রাশিয়ার বাইরে বসবাস করছেন ইউলিয়া নাভালনায়া। তার বিরুদ্ধে ‘একটি চরমপন্থি সংগঠনের যোগ দেয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। রুশ আদালত জানান, তদন্তকারীদের আবেদন আমলে নিয়ে ইউলিয়াকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
মস্কোর আদালত রায় দিয়েছে, ইউলিয়াকে হেফাজতে নিয়ে রিমান্ডে নেওয়া উচিত এবং রাশিয়াতে তাকে ওয়ান্টেড ঘোষণা করা হয়েছে। ইউলিয়ার অনুপস্থিতিতেই আদালত তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন। এর অর্থ, রাশিয়ার মাটিতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গে ইউলিয়াকে গ্রেপ্তার করা হবে।
গত এক দশকে রাশিয়ার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিরোধী নেতা ছিলেন অ্যালেক্সি নাভালনি। গত ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলের কারা কলোনিতে বন্দী অবস্থায় মারা যান তিনি। বন্দীদের ওপর নিষ্ঠুরতার জন্য কারাগারটি কুখ্যাত।
কারাগারে স্বামীর মৃত্যুর পর বিচারের দাবিতে সরব হন ইউলিয়া। স্বামীর মৃত্যুর পর পুতিন সরকারের বিরুদ্ধে স্বামীর লড়াই চালিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ইউলিয়া।
মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের সমর্থকদের বার্তা দিয়েছেন ইউলিয়া। সেখানে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ইউলিয়া লেখেন, “যখন আপনি এটা নিয়ে লিখবেন, দয়া করে মূল বিষয়টি নিয়েও লিখতে ভুলবেন না—ভ্লাদিমির পুতিন একজন খুনি এবং একজন যুদ্ধাপরাধী।“
তিনি আরও বলেন, “পুতিনের জায়গা কারাগারে এবং সেটা হেগের কোথাও আরামদায়ক কোনো কারাকক্ষে টিভিসহ নয়। বরং রাশিয়ায়—ঠিক ওই কারা কলোনিতে, দুই বাই তিন মিটারের ওই কারাকক্ষে, যেখানে তিনি অ্যালেক্সিকে হত্যা করেছেন।“
রুশ বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনি ১৯ বছর ধরে চরমপন্থার অভিযোগে কারাভোগ করছিলেন। তার এই কারাভোগ রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হিসাবে দেখা হয়।
গাজার স্কুলে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ২৯, চারদিনে চার স্কুলে হামলা