জামার জন্য বরাদ্দ কাপড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্যান্ট। আর প্যান্টের কাপড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে জামা। সেই ‘ইউনিফর্ম’ পেয়ে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। কেউ কেউ বাড়ি নিয়ে পরেনি ওই পোশাক। কেউ ‘উল্টা ইউনিফর্ম’ পরে স্কুলে আসছে। এ নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ার করিমপুরের।
আনন্দবাজার অনলাইন জানিয়েছে, করিমপুর সেনপাড়া রাধারানি উচ্চ বিদ্যালয়ে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৪৭ জন।
স্কুল সূত্র জানায়, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীদের জন্য সাদা জামা আর নীল রঙের গাউনের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীদের জন্য সালোয়ার-কামিজের বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু পোশাক তৈরির পরে দেখা গেছে, ১৫০ জন শিক্ষার্থী পেয়েছে ‘উল্টো পোশাক’।
যে কাপড় দিয়ে সালোয়ার বানানোর কথা, তা দিয়ে তৈরি হয়েছে কামিজ। আর কামিজের কাপড়ে তৈরি হয়েছে সালোয়ার। একই বিভ্রাট ছাত্রদের ক্ষেত্রেও। তাদের জামার কাপড়ে তৈরি হয়েছে হাফ প্যান্ট। আর প্যান্টের কাপড়ে জামা। গোমড়া মুখে তাই পরে স্কুলে আসছে ছাত্রছাত্রীরা।
তবে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী এই ইউনিফর্ম গায়ে তোলেনি। অন্য জামাকাপড় পরে স্কুলে গেছে। শৃঙ্খলাভঙ্গ হচ্ছে বুঝেও মুখে কিছু বলছেন না শিক্ষক-শিক্ষিকারা।
টুয়া মণ্ডল নামে ওই স্কুলের এক শিক্ষিকা জানিয়েছেন, আগেও এমন ভুল হয়েছে। ঘটনাটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কানে তুলেও সমাধান হয়নি। ওদিকে ইউনিফর্ম নিয়ে বার বার ক্ষোভপ্রকাশ করছে ছাত্রীরা। ক্ষোভ রয়েছে অভিভাবকদের মধ্যেও। সেটাই স্বাভাবিক।
মলয় বিশ্বাস নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘সরকার যখন টাকা খরচ করে বাচ্চাদের ইউনিফর্ম দিচ্ছে তখন সেগুলো যাতে ঠিকঠাক ব্যবহার করা যায়, সেটাও তো দেখা উচিত! এমন জামা-প্যান্ট দেওয়া হলো যে কেউ পরতে চাইছে না। তাতে লাভটা কী হল?’
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে বিভিন্ন গোষ্ঠীকে স্কুলের ইউনিফর্ম তৈরির বরাদ্দ দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিম্নমানের পোশাক এবং কাপড় সরবরাহ করছে।
টাকার বিনিময়ে ভারতে আশ্রয় নিচ্ছেন ‘প্রভাবশালীরা’, বদলাচ্ছেন পরিচয়