প্রচারে অপকৌশল বিরক্ত দর্শক

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৪, ০৩:৩২ এএম

প্রচারেই প্রসার এমন নীতিতেই চলছে গোটা বিশ্ব। বহির্বিশ্বে যেকোনো কনটেন্ট কিংবা সিনেমা প্রচারের জন্য শিল্পী কিংবা নির্মাতাদের আধুনিক, চমকপ্রদ উপায় ব্যবহার করে থাকতে দেখা যায়। কিন্তু আমাদের দেশীয় ইন্ডাস্ট্রি যেন হাঁটেন উল্টো পথে! তবে কেউ কেউ এটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে ব্যবহার করছেন অপকৌশলে।

কেউ কেউ বোন হারিয়ে গেছে বলে রাস্তায় নেমে ফেসবুক লাইভ করে, আবার কেউ মধ্যরাতে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে লাইভে এসে কান্নাকাটি করে। আবার কেউ কেউ প্রচারণা করতে গিয়ে অন্যের নামে গিবত গাইতে শুরু করে। যেগুলোতে রীতিমতো দর্শকরা, এমনকি সাধারণ মানুষরাও বিরক্ত।

সম্প্রতি সোমবার রাতে ফেসবুক লাইভে এসে অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান জানান, বেশ কিছু দিন ধরে একটা বাজে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। পা থেকে মাথা পর্যন্ত কালো কেউ একজন তাকে ফলো করছেন। বিষয়টা কয়েকবার ঘটেছে দেখেই তিনি লাইভে আসেন। লাইভে এসে কাঁদতে থাকেন এবং এ সময় সেই ব্যক্তিকে দেখিয়ে কান্নাকাটি করতে থাকেন। সবার কাছে নিরাপত্তা চান তিনি। এরপর হুট করে লাইভটি কেটে দেন। অভিনেত্রীর সেই ফেসবুক লাইভে ভক্তরাও ঘাবড়ে যান। সবাই তার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন।

অনেকেই ধারণা করেন, সাদিয়ার সঙ্গে খারাপ কিছু ঘটেছে। তবে এর কিছুক্ষণ পরই ফেসবুক থেকে লাইভটি সরিয়ে নেন সাদিয়া আয়মান। ঘণ্টাখানেক বাদে একটি ওয়েব ফিল্মের পোস্টার শেয়ার করেন তিনি। স্পষ্ট হয়, পুরো ফেসবুক লাইভটি ছিল সেই ওয়েব ফিল্মের প্রচারণার অংশ। এরপরই সাদিয়া আয়মানের ওপর ক্ষুব্ধ হন ভক্তরা। প্রচারণার এমন অপকৌশল নিয়ে সমালোচনায় মেতে ওঠেন তারা। অভিনেত্রীর কাণ্ডজ্ঞান নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন তুলে কটাক্ষ করতে থাকেন।

মাস কয়েক আগেও এ রকম কাণ্ড করেছিলেন আরেক অভিনেত্রী তাসনিয়া ফারিণ। একটি ওয়েব ফিল্মের প্রচারণা করতে গিয়ে তিনিও একই রকম অপকৌশল বেছে নেন। বোন হারিয়ে গেছে, তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না, এমনটা জানিয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন। পরে তিনি জানান, সেটি ছিল প্রচারণার একটি অংশ। সে সময় তার এই লাইভ কাণ্ডও বিতর্কের মুখে পড়ে।

প্রচারণার নামে জনমনে এভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা নিয়ে ক্ষেপেছেন অনেকে। কেউ কেউ বলছেন নিজেদের লাইমলাইটে আনার জন্য ইদানীং শিল্পীরা খুবই সস্তা কৌশল ব্যবহার করছেন। বিভ্রান্তি তৈরি করায় কেউ কেউ আবার তাদের শাস্তিও দাবি করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাটকের বিভিন্ন গ্রুপগুলোয় বিভিন্ন রকম মন্তব্য লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে একজন লেখেন, ‘সাদিয়া আয়মান, দর্শকদের আবেগ, ইমোশন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার কোনো রাইট নেই আপনার! মায়াশালিক ফিল্ম দেখে আপনার কাজের প্রতি একটা মুগ্ধতা ছিল।

কিন্তু লাস্ট নাইট যে লাইভ করলেন, ভেবেছি সিরিয়াসলি “প্যারানরমাল” কিছু। লাইভে এসে জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে কান্নাকাটি করেছেন। নিজের টাইমলাইনে পোস্ট করি বিষয়টি নিয়ে। কিন্তু সকালে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে আসতেই জানতে পারলাম এটা একটা নতুন কন্টেন্ট প্রমোশন লাইভ ছিল, যা দর্শক হিসেবে আমাদের জন্য হ্যারাজমেন্ট।’

আরেকজন লেখেন, ‘আপনার কি কমনসেন্সের অভাব? আপনি যদি কাজের প্রমোশন করবেন তাহলে লাইভ শেষে বলতে পারতেন এটা। না বলে হুট করে কেটে দিলেন। মাঝরাতে জাতির ইমোশন নিয়ে খেলার কী দরকার ছিল। আপনাকে যেভাবে সবাই সাপোর্ট দিয়েছে, এমন কাণ্ডের জন্য আপনাকে আর কারও সাপোর্ট করতে মন চাইবে না।’

বয়কটের দাবি তুলে একজন লেখেন, ‘একটা জিনিস লক্ষ্য করলাম, কর্মফল পেতেই হয়। সাদিয়া আয়মানকে আমি অনেক পছন্দ করতাম। কিন্তু গতকাল রাতে তার লাইভ দেখে চমকে গেছি। পরে আজ জানলাম এটা নাকি প্রচার। এ কেমন বিভ্রান্তি? সাদিয়াকে বয়কট করার সময় এসে গেছে। আল্লাহ দুনিয়ার বিচার দুনিয়াতেই করে, মানুষের কমেন্ট মানুষের সমালোচনা দেখেই তা বোঝা যাচ্ছে।’

এসব প্রসঙ্গে কথা হয় গুণী ব্যক্তিত্ব ও অভিনেতা তারিক আনাম খানের সঙ্গে। তার কাছে জানতে চাওয়া হয়, প্রচারণার উপায় হিসেবে এ ধরনের অপকৌশল কতটা যৌক্তিক। বিষয়গুলো নিয়ে তিনি নিন্দা জানান। বললেন, যারা এ ধরনের উপায় বেছে নেন তারা হয়তো ভিউয়ের জন্য এমনটা করে থাকেন। কিন্তু এটা খুবই নিন্দনীয়। ভিউয়ের জন্য অনেক নিচে নেমে যাচ্ছেন। তাদের বোঝা উচিত, এতে করে তারা নিজেদের জায়গাটাকেই নষ্ট করছেন। কিছুদিন পর দর্শকরাই তাদের আর বিশ্বাস করবে না, সেই সম্মানের জায়গাটাতে রাখবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত