কলেজকে বানাতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় এমনটাই দাবি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের। আজকে এমন উদ্ভট দাবি নিয়ে রাজধানীর মহাখালীতে রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া শিক্ষার্থীদের মিছিল ছুড়ে মারা ঢিলে ট্রেনে থাকা এক শিশু রক্তাক্ত হয়েছে। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
সম্প্রতি নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। যেখানে দেখা যায়, অবরোধের নামে সড়ক এবং রেল পরিবহন আটকে রাখে এসব আন্দোলনকারীরা। এক পর্যায়ে তারা সাধারণ যাত্রীবাহী একটি ট্রেনে লাগাতার ইট পাটকেল নিক্ষেপ করে। ফলশ্রুতিতে আহত হয়েছেন অনেক নিরীহ মানুষ। ভিডিওটিতে দেখা যায়, এসব তথাকথিত শিক্ষার্থীরা রেললাইনের উপর দাঁড়িয়ে রেল থামানোর জন্য চেষ্টা চালায়।
তবে চালক যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ট্রেনটি চালিয়ে যান। তৎক্ষনাৎই বৃষ্টির মতো ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে শিক্ষার্থীরা। এমন বর্বরোচিত হামলায় রক্তাক্ত হয়েছে ছোট ছোট বাচ্চা, বয়োবৃদ্ধ এবং অসংখ্য নারী-পুরুষ।
জানা যায়, বর্বরোচিত এই হামলার পেছনে সরাসরি জড়িত নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী নেতা রেজাউল করিম সানি, কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি দিদারুল আলম সজীব, সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রাক্তন উপ আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক আক্তার হোসেনসহ আরও অনেকে।
বর্বরোচিত এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের শিক্ষার্থীরা এবং সাধারণ মানুষ। এমনকি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে চলছে ট্রলের বন্যা। যেখানে সার্জিস মাসুদ নামে একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন, " তিতুমীরের সিভি পাইলেই কল করুন, ৪-৫ ঘণ্টা বসিয়ে রেখে, ইন্টারভিউতে নানান হ্যারেজমেন্টমূলক কথা বলে ছেড়ে দিন।"
রায়হান খান নামে একজন লিখেছেন, " আজ থেকে বাংলার মানুষের কাছে পরিচয় দিয়েন আমি তিতুমীর কলেজের স্টুডেন্ট।" ট্রাফিক এলার্ট নামের একটি মিম গ্রুপে শেয়ার করা হয়েছে একটি কার্টুনচিত্র। যেখানে দেখা যায়- একজন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীর ইন্টারভিউ নেওয়া অবস্থায় বলছে, "আমি আপনার সিভি দেখেছি, আল্লারস্তে মাফ চাই।"
তাসমিম মাহমুদ নামে একজন লিখেছেন, "নিশ্চিতভাবে আজ থেকে তিতুমীর কলেজের কোনও শিক্ষার্থীর সিভি পেলে আমি অফিসের ময়লার বাক্সে ফেলব। বিশ্ববিদ্যালয় হতে হলে তেমন স্টুডেন্ট হওয়া লাগে। তেমন যোগ্যতাও লাগে।"
আরেকজন নেটিজেন লিখেছেন, " ভ্যাকেন্সি আছে!! টয়লেট ক্লিনার লাগবে। কেন্ডিডেটকে অবশ্যই তিতুমীর কলেজের হতে হবে।" এ বিষয়ে নাবিলা তাসনিম নামে একজন শিক্ষার্থী লিখেছেন, "তিতুমীর কলেজের আন্দোলনের নামে ট্রেনে হামলা মহাখালীতে। রক্তাক্ত নারী শিশুসহ অনেক যাত্রী! একটু পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় দাবি করেন আপনারা, অথচ সামান্য মানবিক মূল্যবোধও নেই আপনাদের।আন্দোলনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই মব নতুন কিছু নয়।এইজন্যই হয়তো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন "মূর্খের দেশে আবার কিসের বিশ্ববিদ্যালয়"!!!
সালমান আরসি নামে একজন লিখেছেন, "শিক্ষিত হওয়ার চেয়ে মানুষ হওয়া জরুরী। ওহে তিতুমীর কলেজ, সাধারণ মানুষের রক্তের উপর দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পেতে চাও?? আজকে যারা ট্রেনে হামলা করে সাধারণ জনগণকে রক্তাক্ত করেছে তাদেরকে অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হোক।" মোহাম্মদ আবদুল কাদের নামে একজন লিখেছেন, "নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এবার ফিরে আসছে তিতুমীর লীগ হয়ে!"
অন্য একজন শাস্তির দাবি জানিয়ে লিখেছেন, "বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী চলন্ত ট্রেনে ঢিল মারার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান আছে। বিভিন্ন রুটে ট্রেন চলাচলের সময় দুষ্কৃতকারীরা এই কাজ করে থাকে। এরা আজ যেই কাজ করেছে, এটা ছাত্রত্বসূলভ আচরণ হতে পারে না। এসব দুষ্কৃতকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে।"
মিফতাদুল ইসলাম নামে একজন লিখেছেন, "এতগুলো মানুষ প্রাণ দিয়েছে দেশটাকে মবের মুল্লুক বানানোর জন্য না। গতকাল সাত কলেজ আন্দোলন স্থগিত করে সরকারকে সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারপরও এরা অধৈর্য্য হয়ে যে কাজ করেছে, এই পরিস্থিতিতে প্রতিকার না, প্রতিরোধ প্রয়োজন।"
মাসুম বিল্লাহ নামে একজন লেখেন, এইচএসসি পরীক্ষা দিব না সচিবালয়ে হামলা। ফলাফল মানি না শিক্ষাবোর্ডে হামলা। কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করতে হবে- রাস্তা বন্ধ, রেলপথ বন্ধ, ট্রেনে হামলা!! পথে ঘাটে উগ্রতা করে যদি সার্টিফিকেট পাওয়া যায় তবে পড়ালেখার কি দরকার!
তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীদের ফের সড়ক অবরোধ