মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ‍উন্নয়নকাজ

ঠিকাদারদের ১০-১৫ শতাংশ কমিশনের ভাগ পেতেন শেখ সেলিম

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৪, ০২:৩১ পিএম

শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম দফায় ১৯ মাসের জন্য (২৮ ডিসেম্বর ১৯৯৯-১৫ জুলাই ২০০১) স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং বিগত সরকারের শেষ সময়ে গত আগস্ট পর্যন্ত মাত্র সাত মাসের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন শেখ ফজলুল করিম সেলিম। এ দুই দফায় অল্প কিছু সময় ছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের আর কোনো নির্বাহী পদে ছিলেন না কখনই।

অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের পুরোটা সময় জুড়ে স্বাস্থ্য খাতের সবকিছুই ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উন্নয়নকাজ, চিকিৎসকদের পেশাজীবী রাজনীতি, চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে অধিকাংশ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পদে নিয়োগ-বদলি, এমনকি স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট সরকারের যেকোনো কর্মসূচি গ্রহণে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব রাখতেন তিনি।

এর মধ্যে ২০১৪ সাল পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদে কে বসবেন তা নির্ধারণ থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য খাতের যেকোনো সরকারি সিদ্ধান্তে তার হস্তক্ষেপ ছিল। ওই সময়কালে শেখ সেলিম নামে পরিচিত এ আওয়ামী লীগ নেতার কথার বাইরে স্বাস্থ্যে কোনো কাজ হতো না। এরপর নিজের বলয়ের বাইরে মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্যমন্ত্রী হলে তার সঙ্গে দেখা দেয় ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। তার পরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের সময় অনেকটা আড়ালে ঢাকা পড়েন শেখ সেলিম। কিন্তু অব্যাহত থাকে স্বাস্থ্য খাতে আধিপত্য।

নির্বাহী ক্ষমতায় না থাকলেও স্বাস্থ্য খাতে শেখ সেলিমের নাম উচ্চারিত হতো মুখে মুখে। ঘনিষ্ঠজনরা বলেন, কোনো কিছু তার নজরের বাইরে যেতে পারত না, নজরের বাইরে গেলেই ক্ষেপতেন। আর তাকে চটিয়ে স্বাস্থ্য খাতে কোনো কাজ করা ছিল অসম্ভব।

এই দীর্ঘ সময়ে শেখ সেলিমের নানা অবৈধ আদেশ পালন করতে গিয়ে বিপদের মুখে পড়েছেন স্বাস্থ্য খাতের বহু কর্মকর্তা। মামলার দায় নিতে হয়েছে মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষসহ শিক্ষক ও চিকিৎসকদের। অনিয়মের কারণে কাজ করার পরও বিল পাননি তার ঘনিষ্ঠ ঠিকাদাররা। শেখ সেলিমের এই একচ্ছত্র আধিপত্যের পেছনে ‘শেখ পরিবারের সদস্য’ এ পরিচয় মূল শক্তি ছিল বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে এবং যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ ফজলুল হক মনির ছোট ভাই শেখ সেলিম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার মামাতো বোন। তিনি শেখ ফজলে নূর তাপসের আপন চাচা। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে টানা ১০ বারের সংসদ সদস্য এবং দলটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য।

ঢাকার বাইরের একটি সরকারি মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কিছু তার (শেখ সেলিম) নজরের বাইরে যেতে পারত না। তাকে ক্ষেপানো যেত না। স্বাস্থ্যের যেকোনো সিদ্ধান্তে তাকে রাখতে হতো।’

স্বাস্থ্য খাতে দলীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই মাহবুব। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘স্বাস্থ্যে তো রাজনীতি আছেই। কিন্তু সেটি দলীয় লেজুড়বৃত্তি না। এখন যেটা হচ্ছে লেজুড়বৃত্তি। লেজুড়বৃত্তি ও রাজনীতি এক নয়। দলীয় লেজুড়বৃত্তি রাজনীতির সঙ্গে স্বাস্থ্যের কোনো সম্পর্ক নেই। যখন লেজুড়বৃত্তি করবেন, তখন জনগণের স্বার্থের ব্যত্যয় হবে। এখন স্বাস্থ্যে তাই হচ্ছে। দলীয় লোকজন নিজেদের স্বার্থে স্বাস্থ্য খাতে প্রভাব খাটাচ্ছে। অর এর ফল হিসেবে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।’

কমিশন ১০-১৫%, যেত তার কাছেও : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকটি সরকারি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, দেশের সরকারি ৩৬টি মেডিকেল কলেজের উন্নয়নকাজের জন্য বছরে ৫০০ কোটি টাকার মতো বরাদ্দ হয়। কাজ পেতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও লাইন ডিরেক্টরকে ১০-১৫ শতাংশ কমিশন হিসেবে ৭৫ কোটি টাকা দিতে হয় ঠিকাদারদের। এই কমিশন বাদ দিলে কাজ করার জন্য থাকে ৪২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে ঠিকাদার কমপক্ষে ৩০ শতাংশ হারে ১২৭ কোটি টাকা লভ্যাংশ হিসেবে রাখেন। শেষমেশ কাজ হয় ২৯৮ কোটি টাকার মতো।

একটি সরকারি মেডিকেল কলেজের এক সাবেক অধ্যক্ষ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কমিশনের টাকার বিষয়টা সবাই জানত। সেই ভাগ শেখ সেলিমও পেতেন। কারণ তার ঠিকাদাররাই সব কাজ করত। তাদের বাইরে কেউ কাজ পেত না বা পাওয়ার চেষ্টাও করত না।’

আরেকটি সরকারি মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জানান, কমিশনের টাকা ভাগ হয় মন্ত্রণালয়ের অর্থ বরাদ্দের সময়। অর্থাৎ কাজ পাওয়ার আগেই সুনির্দিষ্ট ঠিকাদার কমিশনের টাকা দিয়ে দিতেন। এই সাবেক অধ্যক্ষ বলেন, ‘স্বাস্থ্যের উন্নয়ন খাতে বছরে ৪-৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে মেডিকেল কলেজগুলোতে বরাদ্দ হয় ৫০০ কোটি টাকার মতো। কোন কলেজ কতটুকু বরাদ্দ পাবে সেরকম কোনো নিয়ম নেই। এই বরাদ্দ নির্ধারণ হতো ঠিকাদারদের ওপর। যে ঠিকাদারদের সঙ্গে মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও মন্ত্রীর ভালো সম্পর্ক, তারা তাদের তালিকার কলেজগুলোর জন্য বেশি বরাদ্দ নিয়ে আসেন। আমার সময় দুটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান বড় কাজগুলো করত। তাদের সঙ্গে শেখ সেলিমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।’ শেখ সেলিম বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল অনুমোদনের সুপারিশ করতেন বলেও এ অধ্যক্ষ জানিয়েছেন।

দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে এ সাবেক অধ্যক্ষ আরও বলেন, ‘ঠিকাদাররা এতটাই প্রভাবশালী ছিলেন যে, বরাদ্দ পাওয়ার আগেই কাজ শুরু করে দিতেন ও কাজ শেষে বিল নিতেন। এর মধ্যে তারা যে ১৫ শতাংশ কমিশন দেন, তার ১০ শতাংশ দিতে হতো স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। সে হিসাবে বরাদ্দ ৫০০ কোটির মধ্যে ১০ শতাংশ হিসেবে ৫০ কোটি টাকা পেতেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। আমার সময়কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হককে চেকের মাধ্যমে নয়, ব্যাগে ভরে নগদ টাকা দিতে হতো। পরে সেই টাকার ভাগ পেতেন শেখ সেলিম।’

একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ তৈরির উদাহরণ দিয়ে ওই কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ বলেন, ‘তখন মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্যমন্ত্রী। কিন্তু আমার কলেজের কাজ পেল শেখ সেলিমের ঠিকাদার। একদিন মোহাম্মদ নাসিমের ছেলে সাবেক সংসদ সদস্য তানভীর শাকিল জয় ফোন করেন এবং তাদের এক ঠিকাদারকে কাজ দিতে বলেন। এর কিছুদিন পর সেলিম সাহেবের ঠিকাদার এসে বলেন, “আর কেউ ফোন দেবে না, অসুবিধা নেই”। পরে শুনেছি শেখ সেলিমের ঠিকাদার মোহাম্মদ নাসিমের ঠিকাদারের সঙ্গে সমঝোতা করেছে এবং এ কাজের জন্য তিনি মোহাম্মদ নাসিম ও শেখ সেলিমকে মোটা অঙ্কের অর্থ দিয়েছেন।’

এখনো পাননি বিলের ২১ কোটি টাকা : ঢাকার বাইরের একটি সরকারি মেডিকেল কলেজের এক অধ্যক্ষ জানান, অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে স্বাস্থ্য খাতে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ছিল শেখ সেলিমের। কিন্তু মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্যমন্ত্রী হওয়ার পর তাতে ছেদ পড়ে। নাসিম দায়িত্ব নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে আগের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সময় কাজ হওয়া অনেক ঠিকাদারের বিল আটকে দেন। এভাবে একজন ঠিকাদার ২০১৭ সালের বিলের ২১ কোটি টাকা এখনো পাননি। তিনি একাধিকবার শেখ সেলিমের কাছে গেছেন ও শেখ সেলিমও ওই কলেজের অধ্যক্ষকে ফোন করে চাহিদাপত্র ছাড় করাতে বাধ্য করেন। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেই বিল আটকে দেয়। পরে ২০২৩ সালের দিকে ২১ কোটি টাকার কাজের সঙ্গে জড়িত কলেজ অধ্যক্ষ, ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

নিয়ন্ত্রণ করতেন পেশাজীবী রাজনীতি : আওয়ামী লীগপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) একাধিক শীর্ষ নেতা জানান, শেখ সেলিম বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) ও স্বাচিপের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতেন। গত ১৫ বছরে তার বলয়ের চিকিৎসকরাই এ দুই সংগঠনের পদে ছিলেন। এর মধ্যে ২০১৩-১৮ সাল পর্যন্ত বিএমএ এবং ২০০৩-২২ সাল পর্যন্ত স্বাচিপের নেতৃত্বে ছিলেন তার মনোনীত চিকিৎসক নেতারা।

স্বাচিপ নেতারা জানান, শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় দফায় গত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, হাসপাতালের পরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়োগ হয়েছে শেখ সেলিম এবং তার অনুসারী চিকিৎসক নেতাদের পছন্দে। এমনকি গোপালগঞ্জে ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট স্থাপনসহ সরকারের স্বাস্থ্য খাতের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নের পুরো কর্র্তৃত্ব ছিল তাদের হাতে। এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি ও কমিশনবাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই সিন্ডিকেটের। ঢাকার বাইরের এক সরকারি মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ জানান, স্বাচিপের কারণে তিনিসহ অনেক অধ্যক্ষকে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন জায়গায় বদলি হতে হয়েছে।

নির্দেশ মানতে গিয়ে মামলা : শেখ সেলিমের নির্দেশে তার ঠিকাদারদের চাহিদাপত্র ছাড় করায় ফেঁসে গেছেন ঢাকার বাইরের চার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ। এসব অধ্যক্ষ জানান, অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে যেসব ঠিকাদার কাজ করেন, পরের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সেসব কাজে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে তাদের সবার বিল আটকে দেন। এরপর জাহিদ মালেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী হলে এসব ঠিকাদার ও কলেজ অধ্যক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে একটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে মামলা হয় ২০১৯ সালে দুদকে। অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাওয়ার পর আগের কাজের বিলের জন্য শেখ সেলিম ফোন করে ও বাসায় ডেকে আটকে থাকা ৩৭ কোটি টাকার বিলের ছাড়পত্র দিতে নির্দেশ দেন। পরে বিলের ছাড়পত্র দিই। সেই বিলের সূত্র ধরে মামলা করে দুদক। অন্য তিন কলেজের অধ্যক্ষদের বিরুদ্ধেও একই কারণে মামলা হয়। আমাদের অপরাধ হলো, শেখ সেলিমের নির্দেশে বিল ছাড়ের জন্য চাহিদাপত্র দিই।’

এ অধ্যক্ষ জানান, মামলার শিকার এসব অধ্যক্ষ অবসরে গেছেন। কিন্তু মামলার হাজিরা দিতে তাদের এখনো সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে যেতে হয়। হাজিরার দিন ভীষণ ভয়ে থাকেন। যদি জামিন বাতিল হয়ে যায় তাহলে জেলে যেতে হবে। অথচ তাদের কোনো দোষ নেই। তারা অসৎ প্রক্রিয়ার শিকার।

করতেন ছোটখাটো সুপারিশও : শিশু মাতৃস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মজিবুর রহমান সহযোগী অধ্যাপদ পদে পদোন্নতি পেতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও হাসপাতালের বোর্ড অব গভর্নেন্সে আবেদন করেন গত ১১ ফেব্রুয়ারি। এতে ২৯ ফেব্রুয়ারি সুপারিশ করেন শেখ সেলিম। এই চিকিৎসকের এ-সংক্রান্ত আবেদনের এক পাশে ‘সুপারিশ করছি’ লিখে স্বাক্ষর করেন। নিচে লেখা শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপি, ২১৬ গোপালগঞ্জ-২, সভাপতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী হলেও সরকার পরিবর্তনের পর এ চিকিৎসক নিজেকে বৈষম্যের শিকার দাবি করেন এবং ইতিমধ্যেই হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক পদে পদোন্নতি নিয়েছেন।

মামলা ও ব্যাংক হিসাব জব্দ : অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত আগস্টে শেখ ফজলুল করিম সেলিম এবং তার স্ত্রী ও পুত্র-কন্যাদের ব্যাংক হিসাব স্থগিত করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা বিভাগ বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। ব্যাংক হিসাব জব্দের এ তালিকায় থাকা বাকিরা হলেন শেখ সেলিমের স্ত্রী ফাতেমা সেলিম, তার ছেলে এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ফজলে ফাহিম ও শেখ ফজলে নাইম এবং মেয়ে শেখ আমিনা সুলতানা সনিয়া। এর আগে ২০ আগস্ট শেখ সেলিম, তার ছেলে ফজলে ফাহিমসহ পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব তলব করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এরপর গত ১৭ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা শওকত আলী দিদার হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলার আসামি হয়েছেন শেখ সেলিম। তবে তার আগেই শেখ পরিবারের অন্যদের মতো শেখ সেলিম ও তার পরিবারের সদস্যরাও আত্মগোপনে চলে যান।
সব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য শেখ সেলিমের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত