দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ফাইনালে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশ দল গুটিয়ে গেছে ১৯৮ রানে। ফাইনালের মতো বড় ম্যাচে এটি কতটা প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রহ, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ দল শুরু থেকেই চাপে ছিল। উদ্বোধনী জুটি বড় হতে পারেনি। শুরুতেই ফিরে গেছেন কালাম সিদ্দিকি ১ রান করে। আরেক ওপেনার জাওয়াদ আবরারও বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি। অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ ছন্দে থাকলেও ফাইনালের চাপ নিতে পারেননি। ফিরে গেছেন ১৬ রান করেই।
দ্রুত ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশের যুবাদের হাল ধরেন মোহাম্মদ শিহাব জেমস ও রিজান হোসেন। তাদের ৭২ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের আভাস পায় বাংলাদেশ। কিন্তু শিহাব ফিরে গেলেই হয় ছন্দপতন। ৬৭ বলে ৪০ রান করেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ৩টি চার ও ১টি ছক্কা। ফিফটির খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন রিজান। কিন্তু তিনিও যেন ‘নার্ভাস ফোরটি’র শিকার হন। ৬৫ বলে তিন বাউন্ডারিতে ৪৭ রান করেই ফিরে যান।
এই দুই সেট ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর দ্রুতই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। তবে আবার হাল ধরেন ফরিদ হোসেন ও মারুফ মৃধা। তাদের ৩০ রানের ছোটো তবে কার্যকরী ইনিংসটি ২০০ রান ছোঁয়ার আশা দেখাচ্ছিল। কিন্তু ৪৯তম ওভারের চতুর্থ বলে ফরিদ আউট হলে সেটাও ভেঙে যায়। ফেরার আগে ফরিদ ৪৯ বলে ৩৯ রান করেন।
বড় ম্যাচে একাধিক ব্যাটার দুই অংকে যেতে ব্যর্থ হওয়ায় দলকে ভুগতে হয়। পুরো ইনিংসে ৪৯.১ ওভারে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায়, যা ফাইনালের মতো ম্যাচে একটু কম রান বলেই মনে হয়।
ভারতের বোলাররা ফাইনালের চাপ দারুণভাবে সামলেছেন। যুধজিৎ গোহ (২/২৯), চেতন শর্মা (২/৪৮), এবং হার্দিক রাজ (২/৪১) নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের গতি কমিয়ে দেন।
দুবাইয়ের পিচ সাধারণত ব্যাটসম্যানদের সহায়ক হলেও ফাইনালের চাপ এবং প্রতিপক্ষ হিসেবে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ মাথায় রেখে বলা যায়, ১৯৮ রানের লক্ষ্য প্রতিযোগিতামূলক হলেও তা ডিফেন্ড করা কঠিন। এই মাঠে প্রথম ইনিংসে ২৪০-২৫০ রানের সংগ্রহ গড়পড়তা নিরাপদ বলে বিবেচিত।
খেলা শেষে সনি স্পোর্টসকে ভারতীয় ক্রিকেটার কিরণ চোরমালে জানিয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ছিল যত বেশি সম্ভব ডট বল আদায় করা। ২৩০-২৪০ এই মাঠে ফাইনালের জন্য যথেষ্ঠ রান। তারা সেটা বাংলাদেশকে করতে দেননি বলে স্বস্তি ভারতীয় ড্রেসিং রুমে।
১৯৮ রানের পুঁজি নিয়ে জেতার জন্য বাংলাদেশের বোলারদের প্রয়োজন নিখুঁত লাইন-লেংথে বল করা এবং শুরুর ওভারে উইকেট তুলে নেওয়া। ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে রাখতে হলে পাওয়ারপ্লেতে উইকেট নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
এই রান দিয়ে লড়াই সম্ভব, তবে বোলারদের অসাধারণ পারফরম্যান্স করতে হবে। ফাইনালের উত্তেজনায় চাপ সামলে বাংলাদেশ যদি শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং করতে পারে, তাহলে ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা থাকবেই। তবে ভারতের ব্যাটিং গভীরতা এবং অভিজ্ঞতা এই ম্যাচে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
ফাইনাল মানেই চমক। এখন দেখার পালা, ১৯৮ রানের পুঁজি নিয়ে বাংলাদেশ ফাইনালে ইতিহাস গড়তে পারে কি না!
উইন্ডিজ শিবিরে ফের ধাক্কা, ছিটকে গেলেন হেটমায়ার
শক্তিশালি উইন্ডিজের সামনে ‘অনভিজ্ঞ’ বাংলাদেশ
ওয়েলিংটনে রুটের ৩৬তম সেঞ্চুরি, ইংলিশরা সিরিজ জয়ী
ওল্ড ট্রাফোর্ডে ম্যানইউকে ৩০ বছর পর হারালো নটিংহাম ফরেস্ট 