লোডশেডিং থেকে মুক্তি পাচ্ছে মুক্তাগাছাবাসী

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০২৫, ০৩:৫৬ পিএম

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় গ্রামীণ জনপদ নিমুরিয়া এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন মানুষের ঘরে ঘরে লোডশেডিং মুক্ত আলো পৌঁছে দিতে ২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্ল্যান্ট তৈরি করছে মুক্তাগাছা সোলারটেক এনার্জি লিমিটেড (এমএসইএল)। চলতি বছর জুন থেকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে যোগ হবে এ সৌরবিদ্যুৎ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মুক্তাগাছায় শীত মৌসুমে ৩০ মেগাওয়াট এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। পল্লী বিদ্যুতের সমিতি দুই মৌসুমে ৬০-৭০ শতাংশ বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করতে পারে। এমএসইএল'র ২০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে যোগ হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাবে মুক্তাগাছাবাসী।

জানা গেছে, সৌর বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ অন্যান্য মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুতের চেয়ে তুলনামূলক কম। উপজেলার পরিত্যক্ত জনবসতি থেকে বিচ্ছিন্ন ৭৪ একর জমির ওপর এই ২০ মেগাওয়াট এসি সোলার পিভি প্ল্যান্ট তৈরির কাজ এগিয়ে চলছে। পরিবেশ বান্ধব এই সৌরবিদ্যুৎ উৎপন্ন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে, যা ওই এলাকার বিদ্যুতের ঘাটতি পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বছরে ৩৭.৯ গিগাওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং বার্ষিক ১৮ হাজার ৩৪৪ টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমণ এড়াবে। একই সঙ্গে ওই অঞ্চলে শিল্পায়ন ও কল-কারখানার উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করবে।

জুলস পাওয়ার লিমিটেডের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এমএসইএল-এর প্ল্যান্টে যে জমি ব্যবহার করা হয়েছে তা জলাবদ্ধ এবং কচুরিপানার কারণে এতই দুর্গম ছিল যে সেখানে কারো প্রবেশ করা সম্ভব ছিল না। সে কারণে জমির মালিকরা জমি পরিত্যক্ত রেখেছিলেন। সরকার এবং এমএসইএল এই পরিত্যক্ত জমিটিকে একটি যুগোপোযোগী উৎপাদনশীল স্থানে পরিণত করার উদ্যোগ নেয়। ৩২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পে বেশিরভাগ সহায়তা করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

সম্প্রতি মুক্তাগাছা সোলারটেক এনার্জি লিমিটেডের (এমএসইএল) প্রজেক্ট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, আগামী জুনে উৎপাদন শুরুর লক্ষ্যে পুরোদমে মাটি ভরাট ও প্রকল্প এলাকার উন্নয়ন কাজ এগিয়ে চলছে। একাধিক ভেকু দিয়ে কন্ট্রোলরুমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তৈরির কাজ চলছে।

প্রকল্প এলাকার বাসিন্দা ও ভূমি মালিক আব্দুল মালেক বলেন, আমাদের এলাকার বিশাল এই জমিটি জলাবদ্ধ হয়ে থাকে। এখানে সারা বছর কচুরিপনা থাকায় জমিটি পতিত থাকত। সেজন্য আগে আমি জমি কোনও কাজে লাগাতে পারতাম না। এই পরিত্যক্ত জমি থেকে কোনও আর্থিক সুবিধা পেতাম না। বর্তমানে জমি লিজ দিয়ে প্রতি বছর ভাড়ার টাকা পাব। এতে আমার আয়ের ব্যবস্থা হবে।

জুলসের কর্মকর্তা মো. মেহেদুল ইসলাম জানান, জমির মালিকদের কাছ থেকে বার্ষিক ভাড়ার ভিত্তিতে ২২ বছরের জন্য লিজ নিয়ে এই প্ল্যান্ট স্থাপন করা হচ্ছে। জমির অধিকাংশ স্বাভাবিক অবস্থায় রেখেই শুধু পিলার বসিয়ে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে ফলে তা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখবে। এমএসইএল গত মে থেকে জলাশয় পরিচ্ছন্ন করার কাজ শুরু করে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭৮ জন কর্মী এই কাজের সঙ্গে জড়িত, যাদের সবাই স্থানীয় বাসিন্দা। এর মাধ্যমে এই প্ল্যান্টে স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর ডিজিএম মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, মুক্তগাছা উপজেলায় ৫০ মেঘাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু আমরা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছি না। ফলে লোডশেডিং ও ভোল্টেজ সমস্যা হচ্ছে। এমএসইএল-এর প্রকল্প থেকে সৌর বিদ্যুৎ উৎপন্ন শুরু হলে মুক্তাগাছাবাসী উপকৃত হবে। কলকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত