অস্বাভাবিক দাঁত ও মাড়ির প্রদাহ

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৫, ০১:০৭ এএম

আমাদের খাদ্যভ্যাসের পরিবর্তন, যান্ত্রিক জীবনযাপনসহ নানা কারণে চোয়ালের হাড় ও ৩২টি দাঁতের মধ্যে সামঞ্জস্যের অভাবে অনেকের আক্কেল বা উইসডম দাঁত ঠিকমতো উঠতে পারে না। একটু উঠে লক হয়ে যায় বা সামনের দাঁতের দিকে উঠে বা চোয়াল কিংবা জিহ্বার দিকে বাঁকা হয়ে ওঠে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ বা ক্রটিপূর্ণভাবে ওঠার কারণে দাঁতটির সঙ্গে মাড়ির সুনির্দিষ্ট বন্ধন নষ্ট হয়, ফলে দাঁত ও মাড়ির ফাঁকে খাবার জমে আর সহজেই সেখানে ব্যাকটেরিয়া গোত্রের জীবাণু জড়ো হয়ে এমন প্রদাহের সৃষ্টি করে। স্থানটি একটু ফুলে উঠলেই বিপরীত দাঁত দিয়ে  ঘর্ষণজনিত জটিলতার সৃষ্টি করে অসহনীয় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

লক্ষণ

 আক্রান্ত স্থানে শুরুতে একটু অস্বস্তি, লাল হয়ে যায়, জিহ্বা দিয়ে চাপ বা

চুষলে রক্ত আসে

 বাজে গন্ধ ও পচা স্বাদ লাগে

 ব্যথার তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে স্থানটি ফুলে যেতে পারে

 দাঁতে দাঁত মেশানো যায় না ও মুখ খুলতে বা নাড়াতে কষ্ট হতে পারে

 খাবার গিলতে কষ্ট হয়

 মুখের বাইরে নিচের চোয়ালের কাছে ফুলে যেতে পারে

 চিকিৎসা না পেলে কিছু দিন পরপর এমনটা হতে পারে

জটিলতা : পেরিকরোনাইটিস নিয়ে দীর্ঘদিন অবহেলা করে, এখান থেকে আক্কেল দাঁতের পাশের গুরুত্বপূর্ণ দাঁতটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সংক্রমণ রক্তবাহিকায় মিশে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন হার্ট, মস্তিষ্ক, ফুসফুসকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

করণীয় :  নিয়ম মেনে দাঁত, মাড়ি ও জিহ্বা পরিষ্কারের পাশাপাশি সুষম স্বাস্থ্যকর খাবারে অভ্যাসী হতে হবে। আক্কেল দাঁতের আশপাশে কষ্ট হলে উষ্ণ পানিতে লবণ মিশিয়ে দিনে কয়েকবার কুলি করা যেতে পারে। বাজারজাত ক্লোরহেক্সিডিন, পোভিডন আয়োডিন বা হাইড্রোজেন পার অক্সাইড মাউথ ওয়াশ চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা যেতে পারে।

এক্সরের মাধ্যমে চিকিৎসক সহজেই দাঁতের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ জটিলতার বিষয়টি বুঝতে পারেন। দাঁত যদি সোজা ও স্বাভাবিক থাকে তবে মাইনর সার্জারির মাধ্যমে দাঁতের ওপরকার মাড়ি কেটে ফেলতে হয়। দাঁতের অবস্থান স্বাভাবিক না হলে সার্জারির মাধ্যমে দাঁত তুলে ফেলার বিষয়ে বলা হয়। একমাত্র এলোমেলো অবস্থানের আক্কেল দাঁত ফেলে দিলে তেমন কোনো সমস্যা হয় না, তবে অনেক ক্ষেত্রে সার্জারিটা জটিল হয়, বস্থানগত কারণে দাঁতটিকে কেটে বের করতে হতে পারে, হাড় কাটতে হতে পারে, অনেক সময় স্নায়ুর কাছাকাছি থাকে, পাশের দাঁতে ক্ষতি হতে পারে, হাড় ভাঙতে পারে, সার্জারির পরবর্তী জটিলতা হয়। রোগকে পুষে না রেখে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত