'ম্যাচে এক পান্ডিয়াই জিতে', ছোট ভাইয়ের মুম্বাইকে হারানোর পর ক্রুনাল

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৫, ০১:৫৩ পিএম

ভ্রাতৃত্বের বাঁধন ম্যাচে ভাঙেনি, তবে মাঠের লড়াইয়ে জিতে গেলেন বড় ভাই। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সোমবার রাতে আইপিএলের উত্তেজনায় ভরা ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সকে ১২ রানে হারিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ম্যাচের নায়ক ছিলেন ক্রুনাল পান্ডিয়া, আর প্রতিপক্ষে দারুণ লড়েছেন তাঁরই ছোট ভাই হার্দিক পান্ডিয়া।

ম্যাচ শেষে আবেগঘন এক মুহূর্তে দুই ভাইকে দেখা গেল পরস্পরকে আলিঙ্গন করতে। সেই দৃশ্য যেন বলে দিচ্ছিল—লড়াইটা যতই তীব্র হোক, ভালোবাসা অটুট। মাঠেই দুই ভাইয়ের প্রাণখোলা আলাপচারিতা মন কেড়েছে ভক্তদের। ক্রুনাল পরে বললেন, 'ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা স্বাভাবিকভাবেই আছে। তবে আজ একজন পাণ্ড্যরই জেতা ছিল। হার্দিক দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছে, তার জন্য খারাপ লাগছে। কিন্তু দল হিসেবে আমরাই জিতেছি, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।'

তিনি আরও যোগ করেন, 'আমরা (হার্দিক ও আমি) জানতাম, আজ এক পাণ্ড্যই জিতবে। আমাদের বন্ধন খুবই স্বাভাবিক এবং গভীর। হার্দিক দারুণ ব্যাটিং করেছে, ওর জন্য খারাপ লাগছে। কিন্তু দলীয় জয়ই আসল।'

১২ ওভারে ৯৯/৪ অবস্থায় নেমে হার্দিক খেলেছেন অসাধারণ এক ইনিংস—মাত্র ১২ বলে ৪৫ রান, ৪টি ছক্কা, যার দুটি এসেছিল বড় ভাই ক্রুনালেরই বলে। তবে শেষ হাসি হেসেছেন ক্রুনালই।

১৯ রানের কঠিন লক্ষ্য নিয়ে ইনিংসের শেষ ওভারে বল হাতে তুলে নেন তিনি। অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে নিখুঁত বল করে মাত্র ৬ রান দেন, তুলে নেন মিচেল স্যান্টনার, দীপক চাহার ও নামান ধিরের উইকেট। বাঁহাতি স্পিনার ৪৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন।

ক্রুনাল ম্যাচ শেষে বললেন, 'ওয়াংখেড়ের লেগ সাইড ছোট। এখানে ১০ বছর খেলার অভিজ্ঞতা আমাকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। বোলিংয়ের সময় শতভাগ মনোযোগ ও আত্মবিশ্বাস নিয়েই এগোতে হয়, তাহলেই সফলতা আসে।'

তিনি প্রশংসা করেছেন দলের অধিনায়ক রজত পাতিদার ও কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারেরও। 'রজত যেভাবে শুরু করেছে, দারুণ। সে আত্মবিশ্বাস দেয়, গেমপ্ল্যান সমর্থন করে এবং জটিলতা বাড়ায় না। যতীশও ব্যাটিংয়ে দারুণ উন্নতি করেছে, গ্লাভস হাতে তো বরাবরই চমৎকার।'—বলেছেন ক্রুনাল।

এর আগে চেন্নাই সুপার কিংসের বিপক্ষে ৬ হাজার ১৫৪ দিন পর এম চিদাম্বারামে জয় পেয়েছিল বেঙ্গালুরু। এবার ওয়াংখেড়ে ভাঙল আরেক অভিশাপ। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ঘরের মাঠ ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম গত ১০ বছর ধরে যেন দুর্গই ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জন্য। সবশেষ ২০১৫ সালের মে মাসের ১০ তারিখে তারা এখানে জিতেছিল ৩৯ রানে। সেদিন ডি ভিলিয়ার্সের ১৩৩ ও কোহলির ৮২ রানে ভর করে ২৩৫ রান তুলেছিল বেঙ্গালুরু, আর মুম্বাই থেমেছিল ১৯৬ রানে।

গতকালও আরেকবার জ্বলে উঠলেন বিরাট কোহলি। টস জিতে মুম্বাই আগে ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, কিন্তু সেটি কাজে আসেনি। ২০ ওভারে বেঙ্গালুরুর সংগ্রহ ছিল ২২১ রান। কোহলি করেছেন ৬৭, আর রজত পতিদার ৩২ বলে ৬৪ রান। মুম্বাইয়ের হয়ে চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি। ২০ ওভারে ২০৯ রানে থেমেছে স্বাগতিকরা।

হার্দিক পান্ডিয়া চেষ্টা করেছেন প্রাণপণ। তিলক ভার্মা করেছেন ২৯ বলে ৫৬ রান। তবে ভুবনেশ্বর কুমার তাঁর উইকেট তুলে নিয়ে কাজের কাজ করেছেন। যদিও আসল পার্থক্য গড়েছেন ক্রুনাল পান্ডিয়া।

৩ হাজার ৬১৯ দিন পর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুম্বাইকে হারাল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ক্যালেন্ডার হিসেবে সেটা ৯ বছর ১০ মাস ২৭ দিন! আর সেই স্মরণীয় রাতের সাক্ষী হয়ে থাকলেন বিরাট কোহলি ও নিলামে বেঙ্গালুরুর নতুন সদস্য ভুবনেশ্বর কুমার—২০১৫ সালের সেই জয়ী দলের দুই অবশিষ্ট সেনানী।

ম্যাচ শেষে দুই পান্ডিয়া ভাইয়ের আলিঙ্গনে জমে থাকা প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন এক নিমিষেই গলে গেল ভালোবাসার আবরণে। আর বেঙ্গালুরুর জন্য দিনটি রইল ইতিহাসের পাতায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত