ক্যান্সারজয়ী আচেরবি যেনো রূপকথার দেবদূত

আপডেট : ০৭ মে ২০২৫, ০১:৪৯ পিএম

ম্যাচের ৮৭তম মিনিটে যখন রাফিনহা গোল করলেন, বার্সেলোনার সোশ্যাল মিডিয়ায় তখন লেখা হলো, 'This club never dies'. সান সিরোতে উপস্থিত হাজারো সমর্থকের হৃদয় ভেঙে যেতে বসেছিল। ইন্তান মিলান চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে তখন বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে। কিন্তু ফুটবল ঠিক তখনই তার বাস্তব রূপ বদলে সিনেমায় রূপ নেয়।

তখনই আবির্ভাব হয় এক অবিশ্বাস্য চরিত্রের, ৩৭ বছর বয়সী, ক্যান্সার জয়ী ফ্রানচেসকো আচেরবি। ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে গোলমুখে উঠে আসেন এই সেন্টার ব্যাক। বা পায়ের এই ডিফেন্ডার বিপক্ষ বার্সা রক্ষণভাগ ভেদ করেন ডান পায়ে নিখুঁত ফিনিশে। মনে হচ্ছিল, যেন রূপকথার দেবদূত নেমে এসেছে সান সিরোতে। বিশ্বাস না হলে তার শরীরে খোদাই করা ডানাওয়ালা ট্যাটুর দিকে তাকালেই যথেষ্ট।

এই গোলই ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যায়, যেখানে ফ্রাত্তেসির গোলে ইন্তার নিশ্চিত করে জয় এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের টিকিট। কিন্তু অ্যাচেরবির গল্প এখানেই থামে না—এটা কেবল শেষ মুহূর্তের একটি গোলের গল্প নয়, এটা একজন লড়াকুর গল্প, যিনি ইউরোপের সবচেয়ে ভয়ংকর স্ট্রাইকারদের আটকে রেখেছেন।

এই মৌসুমেই আচেরবির সামনে পড়েছেন -হ্যারি কেইন, আর্লিং হালান্ড, রোমেলু লুকাকু, মাতেও রেতেগুই, মোইজ কিনেরা। সবাই ছিলেন গোলের জন্য মরিয়া, কিন্তু আচেরবি তাদের একজনকেও গোল করতে দেননি।

*বায়ার্নের মাঠে কেইনের বিপক্ষে তিনি দেন মাত্র এক শটের সুযোগ, সেটাও পোস্টে লাগে।

*ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে হালান্ডকে তিনি একবারও গোলের সুযোগ দেননি, এমনকি ২০২৩ সালের ফাইনালেও নয়।
*রেতেগুই আর লুকাকুকে তিনি একাধিক ম্যাচে নিরব করে রেখেছেন।

*মোইজ কিন গোল করেছিলেন একমাত্র সেই ম্যাচে, যেখানে অ্যাচেরবি খেলেননি।

ফেরান তোরেসকে টপকে বল ক্লিয়ার করছেন আচেরবি

ইন্তার এই চ্যাম্পিয়নস লিগে ১১ ম্যাচে মাত্র তিনটি গোল হজম করেছে, যার মধ্যে অ্যাচেরবি না থাকা একমাত্র ম্যাচে এসেছে একটি গোল। বাকি দুই গোলের বিপরীতে আচেরবি ছিলেন একেবারেই দুর্ভেদ্য।

আচেরবির ক্যারিয়ার একসময় থমকে গিয়েছিল টেস্টিকুলার ক্যান্সারে। কিন্তু মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই মানুষটি আজ ইন্টার মিলানের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক, এবং ইউরোপের শীর্ষ ফরোয়ার্ডদের জন্য আতঙ্কের নাম।

আগামী জুনে ইতালির সামনে নরওয়ের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ কোয়ালিফায়ার—হালান্ড ফিরলে, হয়তো আবার দেখা হবে তার সেই পুরনো ছায়ার সঙ্গে। কারণ, যেখানে বল থাকে, সেখানে আচেরবি থাকেন—শুধু রক্ষণ নয়, প্রয়োজনে শেষ মুহূর্তে গোল করেও ইতিহাস লেখেন।

এই গল্পটা শুধুই একজন ফুটবলারের নয়, এটি এক অসামান্য মানবিক জয়ের গল্প—যেখানে জীবন হার মানেনি, বরং বলেছিল, *"Never dies!"*

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত