বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে নিরাপদ অভিবাসন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণসহ শ্রমবাজার সংক্রান্ত তৃতীয় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সভা আজ বুধবার ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে শুরু হয়েছে। দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদের এ সভা ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যেকোনো সময় বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক প্রেরণ শুরু হতে পারে।
গত মঙ্গলবার মালয়েশিয়া সরকারের ১৪ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসেছেন। মালয়েশিয়ার এ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল ড. এম. শাহরিন বিন উমর। বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক বিশেষ দূত ড. লুৎফি সিদ্দিকি এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া। এছাড়া বৈঠকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন।
সভা শেষে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রমিক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি ঘোষণাপত্র স্বাক্ষরিত হবে। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়া আগামী ছয় বছরে প্রায় ১২ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ড. লুৎফি সিদ্দিকি সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বছর শ্রমবাজার বন্ধ থাকায় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেও যেতে না পারা প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে প্রথম ধাপে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। তাদের সরকারি ব্যবস্থাপনায় বোয়েসেলের মাধ্যমে প্রেরণ করা হবে।’
তিনি আরও জানান, ‘বাংলাদেশে প্রচুর রিক্রুটিং এজেন্সি থাকলেও মালয়েশিয়া সরকার সীমিত সংখ্যক এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক নিতে আগ্রহী। এ বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপে আলোচনা চলছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা প্রদানের বিষয়ে মালয়েশিয়া সরকার ইতোমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক করেছে। মালয়েশিয়া সরকার শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি অত্যন্ত আন্তরিকভাবে বিবেচনা করছে এবং উভয় পক্ষই স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ পথে মালয়েশিয়ায় গমনকারী শ্রমিকরা প্রায়শই বন-জঙ্গলে আত্মগোপন করে থাকে। পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় এবং কারাবরণ করতে হয়। এ কারণে বাংলাদেশ সরকার বৈধ প্রক্রিয়ায় শ্রমিক প্রেরণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। মালয়েশিয়া সরকারের প্রস্তাবিত শর্তাবলি পূরণের দিকেও বাংলাদেশের সজাগ দৃষ্টি রয়েছে।
গত ১৪ মে মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির স্বরাষ্ট্র ও মানবসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে এক যৌথ সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল অংশ নেন। এতে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, ড. লুৎফি সিদ্দিকি, ড. নেয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া এবং উপসচিব সারোয়ার আলম। ওই সভায় বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে চলমান মানবপাচার ও অর্থপাচার সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির অনুরোধ জানানো হয়।
মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাগুলো ‘হয়রানিমূলক’ এবং এগুলো মালয়েশিয়ার অভিবাসন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এসব মামলা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মালয়েশিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে তারা মনে করে।
রিক্রুটিং এজেন্সি মালিকদের সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মসংস্থান, কম খরচে মালয়েশিয়া গমন এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ব্যবসায়িক স্বার্থের চেয়ে দেশ ও শ্রমিকদের স্বার্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বায়রার কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অস্বাভাবিকভাবে মানবপাচার ও অর্থপাচারের মামলা দায়ের করা হয়েছে। এগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি অপরিহার্য। নইলে এজেন্সিগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না।’
বায়রার অন্য নেতা মোবারক উল্লাহ শিমুল বলেন, ‘অতীতে শ্রমিকরা দুই দেশের চুক্তি ও নীতিমালা অনুসরণ করেই মালয়েশিয়া গেছেন। সেখানে মানবপাচারের অভিযোগ আনা অযৌক্তিক। এসব মামলা শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং দুই দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তাই মামলাগুলো প্রত্যাহার করা জরুরি। মালয়েশিয়া সরকারও ইতোমধ্যে বাংলাদেশকে এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছে বলে আমরা অবগত।’
বায়রার এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ‘মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার প্রতিটি উদ্যোগে বায়রার একটি গোষ্ঠী বাধা সৃষ্টি করে। তারা অবৈধভাবে শ্রমিক পাঠানোর সাথে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। বৈধ প্রক্রিয়ায় শ্রমিক গমন করলে তাদের অবৈধ ব্যবসা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘অবৈধ পথে গমনকারী শ্রমিকরা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করে। এতে মালয়েশিয়ার পণ্য রপ্তানিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে তা ইসির নয়, সরকারের এখতিয়ারভুক্ত
সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান আবু হেনাসহ ৪ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
ইশরাককে শপথ না পড়ানোর রিটের আদেশ কাল