নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জেলায় যোগদানের পর জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন। রাজবাড়ী থেকে নারায়ণগঞ্জে যোগদানের আগেই ডিসি পদবির আগে ‘মানবিক ডিসি’ খেতাব দেওয়া হয়। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারিতে যোগ দিয়ে তিনি প্রাচ্যের ডান্ডি নারায়ণগঞ্জ পুনারুদ্ধার করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য সর্বত্রক পরিশ্রম করে চেষ্টা করে যাচ্ছেন জনগণের কল্যাণে।
কখনও গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন কর্মসূচিতে এক লাখ সবুজ পাতার বৃক্ষরোপণ, ক্লিনে জলাবদ্ধতা দূরীকরণে খাল খনন, জুলাই-আগস্ট শহীদদের স্মরণে দেশের প্রথম নারায়ণগঞ্জে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ, বীর শহীদদের পরিবারদের আর্থিক প্রদান, তাদের স্মরণে বৃক্ষরোপণ, সাইনবোর্ডে ‘গেইট অফ ডান্ডি’ নির্মাণ ঘোষণা, খেলাধুলা চাহিদা পূরণে কোচ খেলোয়াড়দের আর্থিক সহায়তা, কখনও পরিচ্ছনকর্মী কন্যা বিয়ে ও অসহায়দের সুবিধার্থে আর্থিক সহায়তা প্রদান, নারায়ণগঞ্জ স্টেডিয়াম উন্নয়নে ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দ, কখনো ছুটে যায় ডেঙ্গু কিট ও আয়রন ট্যাবলেট নিয়ে হাসপাতালে, নবজাতকদের জন্য এনআইসিইউ চালু করা, চাদাঁবাজ সন্ত্রাসীদের আটক করে এক মাসের ডিটেশন প্রদান, পাসপোর্ট অফিসে দালালিতে কারাদণ্ড, নিশ্চিত নিরাপদ খাদ্য প্রদানে মোবাইল কোর্ট এবং যানজট ও হকার মুক্ত নগর গড়ে তুলতে দফা দফা বৈঠক চলমান অব্যাহত রেখেছেন।
জানা গেছে, কিছুদিন আগে নারায়ণগঞ্জ ফুটবল একাডেমিকে ফুটবল খেলার বুট ক্রয় সার্বিক খরচে জেলা পরিষদ থেকে ৭৮ হাজার টাকার চেক তুলে দেন ডিসি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর জনপ্রতিনিধি শূন্য হয়ে পড়ে নারায়ণগঞ্জ। ৫ আসনে হুইপ ও এমপিরা পলাতক হয়ে যায়। একই সাথে আওয়ামী লীগ সমর্থিত জেলা পরিষদের প্রশাসক, পৌরসভার মেয়র কাউন্সিলর, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেম্বারও পলায়ন করেন। যার এরপরই ১৯ আগস্ট থেকে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা হয়। একই সাথে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যানকে অপসারিত করে প্রজ্ঞাপন জারি করেন।
তাদের দায়িত্বে সরকারের সচিব, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ইউএনওসহ সরকারি দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তারা পালন করে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রয়েছে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। প্রায় সাড়ে সাত মাসের বেশি সময় ধরে তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলার সর্বত্র স্থানে কর্মসূচি নিয়ে হাজির হয়েছেন। একই সাথে নারায়ণগঞ্জকে আবারো প্রাচ্যের ডান্ডি ফিরে আনতে বিভিন্ন দপ্তরে সাথে যোগাযোগ বহাল রেখেছেন।
নারায়ণগঞ্জবাসীর ভোগান্তি অপর নাম হলো যানজট ও ফুটপাত দখল। তিনি ইতোমধ্যে একাধিবার নাসিকের প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নিয়ে বৈঠক করে সমাধানের প্রচেষ্টা করে যাচ্ছেন। সুযোগে বাস মালিকরা ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটের ভাড়া বৃদ্ধি করে নিলেও নারায়ণগঞ্জবাসীর ভোগান্তি কথা শুনে একদিন পরই বাস ভাড়া স্থগিত করে দেন জেলা প্রশাসক। এই নিয়ে এরই মধ্যে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। যারা বাস ভাড়া নিয়ে কুশলের ভূমিকা পালন করেছেন তারা ডিসি নজরে সুবিধাভোগী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ কর্মসূচিতে এক লাখ বৃক্ষরোপণ ও খাল পরিস্কারে আলোচিত রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। আগস্টের শুরুতে জেলা প্রশাসন সম্প্রতি 'গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ' কর্মসূচির আওতায় শহরজুড়ে খাল পরিষ্কার ও খনন কার্যক্রম শুরু করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জলাবদ্ধতা নিরসন এবং খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা। তবে, খাল পরিষ্কারের পরও দ্রুতই তাতে ময়লা ফেলার কারণে এটি একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ বলে জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া উল্লেখ করেছেন, যার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনি ব্যবস্থার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসক প্রচেষ্টায় দেশের প্রথম নারায়ণগঞ্জে জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ’ উদ্বোধন অন্তবর্তী সরকারের পাচঁ উপদেষ্টা।। এটি জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়েছে এবং জেলা শহরের হাজীগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত।
নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া নারায়ণগঞ্জ শহরকে যানজট ও হকারমুক্ত করার জন্য কাজ করছেন এবং এই সমস্যাকে তার প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সমস্যা সমাধানে তিনি সিটি কর্পোরেশন, জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিআরটিএর মতো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর সহায়তা চেয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নারায়ণগঞ্জের যানজট ও হকার সমস্যা তার কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম।
