তিরানব্বইয়ে আশা ভোঁসলে

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৫৩ পিএম

আজ জীবনের ৯৩তম বসন্ত স্পর্শ করলেন উপমহাদেশের অন্যতম প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী আশা ভোঁসলে। ১৯৩৩ সালের আজকের দিনে (৮ সেপ্টেম্বর)  মহারাষ্ট্রের সাংলিতে মঙ্গেশকর পরিবারে জন্ম আশা ভোঁসলের। মাত্র ৯ বছর বয়সে বাবাকে হারিয়ে পরিবারের সঙ্গে চলে আসেন পুনে থেকে কোলহাপুরে এবং পরবর্তী সময়ে মুম্বাইয়ে। ১৯৪৩ সালে জীবনে প্রথমবার সিনেমায় গান করেন আশা ভোঁসলে। মারাঠি সিনেমা ‘মাঝা বাল’-এর ‘চালা চালা নভ বালা’ গানটি শোনা যায় তার কণ্ঠে। হিন্দি সিনেমার জগতে পা রাখা ১৯৪৮ সালে হংশরাজ বেহলের ‘চুনারিয়া’ দিয়ে। 

তবে হিন্দি সিনেমাতে আশার প্রথম একক গান শোনা গিয়েছিল ১৯৪৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রাত কি রানী’-তে। ১৯৫০ সাল থেকে হিন্দি সিনেমার জগতে ধীরে ধীরে শুরু হয় তার উত্থান। প্রায় ছয় দশক ধরে গান করছেন কিংবদন্তি এ শিল্পী। তার গান শ্রোতাদের এখনো মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। ভারতের বিভিন্ন ভাষায় গান করেছেন তিনি। গেয়েছেন সংগীতের বিভিন্ন ধারায়। সবচেয়ে বেশি গান রেকর্ড করার জন্য গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ডে তার নামও রয়েছে। পেয়েছেন দাদাসাহেব ফালকে, পদ্মবিভূষণসহ অসংখ্য সম্মাননা। এখনো গান করে যাচ্ছেন আশা। সেই যে শৈশবে শুরু করেছিলেন এই নবতিপর বয়সেও তার কোনো বিশ্রাম নেই। গেয়েই চলেছেন অবিরাম। কণ্ঠেও ধরে রেখেছেন সেই সুধাকর জাদু। এ বিষয়ে তাই একবার সংবাদমাধ্যমে নিজের শেষ ইচ্ছার কথা জানান এভাবে, ‘যতক্ষণ নিঃশ্বাস আছে, ততক্ষণ গান গেয়ে যেতে চাই।’ 

গানের প্রতি তার এই দুর্নিবার পিপাসা থাকার কারণেই বয়স তার জীবনীশক্তিকে কাবু করতে পারেনি। তারই কথায়, তার চিরনবীন হয়ে থাকার মন্ত্র হলো, ‘সামনের দিকে এগিয়ে চলা।’ শুধু গানের প্রতিই নয়, সংসারের প্রতিও তার দুর্নিবার আকর্ষণ ছিল সেই শৈশব থেকেই। তাই তো কৈশোর না পেরোতেই পরিবারের কাউকেই না জানিয়ে তারই গানের শিক্ষকের সঙ্গে প্রেম করে সংসারী হয়ে যান। যদিও তার সেই সংসার খুব বেশিদিন টেকেনি। আশা বলেন ‘জীবনে কোনো অনুশোচনা নেই। বেঁচে আছি, সবার ভালোবাসা পেয়েছি এবং এখনো পাচ্ছি, এতেই আমি খুশি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত