বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতদের নিয়ে সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রীর কটুক্তি

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৪৩ এএম

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত নাগরিকদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন সাবেক বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেছেন, লন্ডনের কিছু এলাকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশীরা ইংরেজি বলতে পারে না, যা তিনি ‘লজ্জাজনক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাই বাংলাদেশী কমিউনিটির সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেন। বরিস জনসন বলেন, আমার শাসনামলে দেখেছি, লন্ডনের কিছু অংশে বাংলাদেশি কমিউনিটির দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্ম ইংরেজিতে কথা বলত না। সেটা ছিল লজ্জাজনক। তার এমন বক্তব্যের পর থেকে বাংলাদেশী কমিউনিটিতে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।

বরিস জনসনের এমন মন্তব্যকে ‘মিথ্যা, অপমানজনক ও বর্ণবাদী মানসিকতার প্রতিফলন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।  তারা বলেন, যুক্তরাজ্যে জন্ম ও বেড়ে ওঠা দ্বিতীয় ও তৃতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতরা ব্রিটিশ শিক্ষা ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত, যেখানে ইংরেজিই একমাত্র শিক্ষার মাধ্যম। তাই তাদের ইংরেজি না জানার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ব্রিটিশ স্কুলে পড়া কেউ ইংরেজি বলতে পারে না, এমন দাবি মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়। এটি কেবল তথ্যগত ভুল নয় বরং একটি কমিউনিটিকে হেয় করার প্রচেষ্টা।

ইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজের (IFS)তথ্যও জনসনের বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সংস্থার সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের গণিত ও ইংরেজি জিসিএসই ফলাফলে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূতরা এখন মূলধারার ব্রিটিশদের চেয়ে পাঁচ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে। ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রতি বছরই বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীদের অসাধারণ শিক্ষাগত অর্জনের স্বীকৃতি দিয়ে আসছে।

কমিউনিটির নেতারা বলেন , বরিস জনসনের বক্তব্য ব্রিটিশ বাংলাদেশী সমাজের প্রতি গভীর অবমাননা। তিনি যেন অবিলম্বে তার মন্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চান।একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এমন মিথ্যা ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়া অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন। এটি শুধু কিছু ব্যক্তিকে নয় বরং পুরো কমিউনিটির চার প্রজন্মের কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষাগত অর্জন এবং ব্রিটিশ সমাজে সংহতিকে অসম্মান করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত