ফুলবাড়ীতে সবুজ হত্যা: বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:৫৪ পিএম

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ঘটনার ২৩ দিনপর মরদেহের বিচ্ছিন্ন মস্তক উদ্ধারসহ সাব্বির হোসেন সবুজ (২৫) হত্যার রহস্য উন্মচন করেছে পুলিশ। কাজের লোকের কোদালের আঘাতে সবুজের মৃত্যু।

আজ শনিবার সকাল ১০টায় ফুলবাড়ী থানা চত্বরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। সাংবাদিকদের প্রেস বিফিং এ জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফাত হুসাইন জানান, সাব্বির হোসেন সবুজ গত ২৩ অক্টোবর নিখোজ হয়। এ সংক্রান্ত থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়। এর পেক্ষিতে তাকে আমরা খুঁজতে থাকি। নিহত সাব্বির হোসেন সবুজ উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের মৃত ইবনে সাউদ সরকার এর ছেলে।

জানা গেছে, আব্দুর হামেদ ২০০৫ সাল থেকে সবুজদের বাড়িতে কাজ করেন। ঘটনার দিন গত (২৩ সেপ্টেম্বর) সবুজ তাদের একটি ঘাসারে জমিতে আগাছা পরিষ্কার করার জন্য হামেদকে ডেকে নিয়ে যান। এ সময় জমির আগাছা পরিষ্কার করার সময় দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সবুজের মাথায় কোদাল দিয়ে আঘাত করেন হামেদ। এতে সবুজের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে মৃতদেহ লুকানোর জন্য হামেদ প্রথমে ঘাস দিয়ে মরদেহটি ঢেকে রাখেন। পরে মরদেহটি পাশের একটি পুকুরের পানিতে ডুবিয়ে রাখেন। এরপর মরদেহটি তিন টুকরা করে কাজিহাল ইউনিয়নের রশিদপুর গ্রামের একটি ধানখেতের ডোবায় বস্তায় ভরে পানির নিচে পুঁতে রাখেন এবং মাথাটি পাশে একটি বরেন্দ্র গভীর নলকূপের পাইপের ভেতরে রেখে দেন।

পুলিশ সুপার বলেন, রিমান্ডে প্রাথমিক চিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন আটককৃত আব্দুর হামেদ। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থল থেকে মস্তকসহ হত্যায় ব্যবহৃত হাসুয়া ও কোদাল উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে এ ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে।

এ ঘটনায় গত ২৬ অক্টোবর নিহতের ছোট ভাই সাদেক হাসান সজিব বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামি করে ফুলবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার সূত্র ধরে থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সে রাতেই ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। আটককৃতদের মধ্যে মামলার ৬ নম্বর আসামি উপজেলার কাজিহাল ইউনিয়নের গ্রামের মৃত আব্দুর জব্বারের ছেলে মো. আব্দুর হামেদকে তিন দিনের রিমান্ডে থানায় নিয়ে আসে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত