ব্রাহ্মণবাডিয়া জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের গুরুতর অভিযোগে জেলা এনসিপির সমন্বয় কমিটির সদস্য আসাদ খোকনকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে দলের চিঠিতে।
বৃহস্পতিবার রাতে অব্যাহতির ওই চিঠি প্রকাশ পায় সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমে। জেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী আজিজুর রহমান লিটন কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক আসাদ খোকনকে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, ‘আসাদ খোকনের বিরুদ্ধে গুরুতর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের একটি অভিযোগ উত্থাপিত হয় এবং তা কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রতীয়মাণ হয়েছে।
এমতাবস্থায়, আসাদ খোকনকে জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্যপদসহ সকল দায়িত্ব থেকে আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশক্রমে সাময়িক অব্যাহতি প্রদান করা হলো।
একইসাথে, কেন দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তার যথাযথ ব্যাখ্যা আগামী তিন (০৩) কার্যদিবসের মধ্যে শৃঙ্খলা কমিটির প্রধান অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল-আমিন বরাবর দাখিলের জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে চিঠিতে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন আগে জেলার নাসিরনগর উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর মৌজার ৯৫০ ও ৯৬৩ দাগের দুটি খাস পুকুর দখলে করতে উদ্যোগী হন এনসিপি নেতা আসাদ খোকন। পুকুর দুটি অনেক বছর ধরে লক্ষ্মীপুর দারুল কোরআন মাদরাসা, মসজিদ ও কবরস্থানের নামে ইজারা দেওয়া হয়। যাতে করে কবরস্থান এবং ওই দুই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কাজসহ খরচ চলতো। আসাদ খোকন ওই খাস পুকুর দুটি অবৈধভাবে দখল করতে প্রচেষ্টা চালান। উপজেলা ভূমি অফিস বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়দের উন্মুক্ত ইজারা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
ইজারার খবর শুনে আসাদ খোকন ইজারায় অংশ না নিতে অন্যদের হুমকি দেন। গত ১৪ অক্টোবর এসিল্যান্ড অফিসে ইজারায় অংশ নিতে আসেন লক্ষ্মীপুর গ্রামের চার ব্যক্তি। এসিল্যান্ড অফিসে আসার পর তাদের উপর হামলা হয়। এরপর পুলিশের সহযোগিতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। অফিস থেকে বের হওয়ার পর আবারও তাদের ওপর হামলা করা হলে ৫ জন আহত হয়। এই ঘটনায় আসাদ খোকনের বিরুদ্ধে ইউএনও এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। এ নিয়ে মানববন্ধনও হয়।
অব্যাহতির বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদ খোকন বলেন, দাপ্তরিকভাবে আমি কোনো চিঠি পাইনি। ফেসবুকে দেখেছি। পুকুর ইজারার ঘটনার বিষয়ে আসাদ খোকন বলেন, আমি বৈধভাবে ইজারা পাওয়ার জন্য গিয়েছিলাম। এ নিয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করান।
