চট্টগ্রাম বন্দরের বর্ধিত ট্যারিফের (মাশুল) আদেশ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ৩০ দিনের জন্য স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। রবিবার বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেয়। রুলে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্ধিত ট্যারিফ নিয়ে ১৪ সেপ্টেম্বরের গেজেট ও ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি জারি কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও চিফ ফাইনান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্ট অফিসারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ মেরিটাইম ল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন আবদুল কাদের এ রিট আবেদনটি করেন। রিটকারী আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বর্ধিত ট্যারিফের আদেশ গত ৩০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করে সংস্থাটির চীফ ফিন্যান্স অফিসার। বর্ধিত এই ট্যারিফ বিধিসম্মত নয় বলে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করি। আদালত তা আমলে নিয়ে বর্ধিত ট্যারিফ আদায় এক মাসের জন্য স্থগিতের আদেশ দেয় এবং আগামী ৩০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি এটর্নি জেনারেল নুর মোহাম্মদ আজমী দেশ রূপান্তরকে বলেন, বর্ধিত ট্যারিফের আদেশের ওপর এক মাসের স্থগিতাদেশ ও রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এদিকে বর্ধিত ট্যারিফ ইস্যুতে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে সোমবার বন্দর ভবনের সম্মেলনকক্ষে আলোচনায় বসবেন নৌ উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। ট্যারিফ ইস্যুতে এর আগে ব্যবসায়ীরা কর্মবিরতিসহ নানা কর্মসূচী দিয়েছিল। বন্দরের পক্ষ থেকে কিছু দাবি দাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় কর্মবিরতি স্থগিত করা হলেও বন্দরের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে বলা হয়েছিল। আর এরই ধারাবাহিকতায় আজ ১০ নভেম্বর ট্যারিফ ইস্যুতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন নৌ উপদেষ্টা।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্ধিত এই ট্যারিফ নিয়ে ব্যবসায়ীদের নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী। পোর্ট ইউজার্স ফোরামের ব্যানারে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্ধিত ট্যারিফ ইস্যুতে সর্বপ্রথম গত ১২ অক্টোবর প্রতিবাদ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এর প্রতিবাদ করে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া ট্যারিফ বৃদ্ধি কার্যকর করা যাবে না বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। পরবর্তীতে গত ১৮ অক্টোবর ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন এবং সাত দিনের আল্টিমেটাম ঘোষণা করেছিলেন।
এই সাত দিনের মধ্যে বন্দরের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া না গেলে বন্দর বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। একইসাথে বন্দরে প্রবেশ বর্ধিত গেইট ফি বাতিলের দাবিতে চলমান পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত (১৫ অক্টোবর থেকে পরিবহন ধর্মঘট ছিল) রাখা এবং কাস্টমসের সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন ১৯ অক্টোবর থেকে প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে কর্মবিরতি করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বন্দরের পক্ষ থেকে দাবি দাওয়া মেনে নেয়ার আশ্বাসে এসব কর্মসূচী স্থগিত করা হয়েছিল।
সর্বশেষ গত ২৯ অক্টোবর অপর এক সমাবেশে আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী ঘোষণা দেন বন্দরের পক্ষ থেকে আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে মিটিংয়ের জন্য আমাদের ডাকা হবে বলে আশ্বাস দেয়া হয়েছে। আর এরই ধারাবাহিকতায় এই বৈঠক।
দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপচারিতায় পোর্ট ইউজার্স ফোরামের সভাপতি ও চিটাগাং চেম্বারের সাবেক প্রেসিডেন্ট আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘হাইকোর্ট থেকে বর্ধিত ট্যারিফ ইস্যুতে এক মাসের স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপে কি সিদ্ধান্ত আসে দেখি। এই আলোচনার পর আমরা আমাদের পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করব।’
এর আগে একই আাদালত চট্টগ্রাম বন্দরের ট্যারিফ বৃদ্ধির বৈধতা নিয়ে ২২ অক্টোবর রুল জারি করেছিল। তখন আবেদন করেছিল বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশন।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বর্ধিত ট্যারিফ গত জুনে নৌ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পেয়ে ২৪ জুলাই অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদন করে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর তা গেজেট আকারে প্রকাশের পর কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
এই ধারাবাহিকতায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের আগে বন্দর ব্যবহারকারীদের নিয়ে গত ২৫ আগস্ট নৌ মন্ত্রণালয়ে একটি সভা হয়েছিল। সেই সভার পর গত ১৪ সেপ্টেম্বর গেজেট আকারে ট্যারিফ প্রকাশিত হয়।
গেজেটে বলা হয়েছে এই ট্যারিফ ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে। পরবর্তীতে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে নৌ উপদেষ্টা তা একমাস পিছিয়ে দেন। সেই হিসেবে গত ১৫ অক্টোবর থেকে তা কার্যকর শুরু হয়। বন্দরের পক্ষ থেকে বলা হয় ৩৯ বছর পর ট্যারিফ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
