গণহত্যার পর অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্র আইন আরও কঠোর করার প্রস্তুতি

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৫ পিএম

সিডনির বন্ডি বিচে রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সংঘটিত প্রাণঘাতী ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়ায় অস্ত্র আইন কঠোর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রায় তিন দশকের মধ্যে দেশের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী গণহত্যায় এক পিতা-পুত্র জুটি ইহুদি ধর্মীয় উৎসবে ১৫ জনকে হত্যা করেছে। হামলাকারী ৫০ বছর বয়সী পিতা ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং তার ২৪ বছর বয়সী ছেলে বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ করেছে। তারা হলেন সাজিদ আকরাম এবং তার ছেলে নাভিদ আকরাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, সাজিদ আকরাম ১৯৯৮ সালে শিক্ষার্থী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় আগমন করেন, আর তার ছেলে জন্মসূত্রে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হামলাকারীরা বোল্ট-অ্যাকশন রাইফেল এবং শটগান ব্যবহার করেছে। তাদের যানবাহনে দুইটি ইসলামিক স্টেট পতাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বিশ্বের অন্যতম কঠোর অস্ত্র আইন থাকা সত্ত্বেও এই হত্যাকাণ্ড দেশে নতুন করে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নীতি এবং কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মূলত ১৯৯৬ সালের পোর্ট আর্থার গণহত্যার পর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন বিশেষ করে অটোমেটিক অস্ত্রের ক্ষেত্রে আইনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ বলেন, 'মানুষের পরিস্থিতি পরিবর্তন হতে পারে এবং কেউ যে কোনো সময় উগ্রপন্থী হয়ে উঠতে পারে। তাই বন্দুক লাইসেন্স চিরস্থায়ী হওয়া উচিত নয়।' তিনি জানান, মন্ত্রিসভার কাছে বন্দুক লাইসেন্সের আওতায় অনুমোদিত অস্ত্রের সংখ্যা এবং লাইসেন্সের মেয়াদ পুনর্বিবেচনার প্রস্তাব দেবেন।
 
এ ঘটনার পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বৈঠক এবং নীতি প্রণয়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত