মাত্র ৫৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া একের পর এক ভুলে ইউরোপা লিগে নটিংহ্যাম ফরেস্টের স্বপ্ন বড় ধাক্কা খেল। পর্তুগালের ব্রাগার মাঠে হতাশাজনক হারে পড়ার পর শেষ ষোলোতে সরাসরি ওঠার সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে গেছে ইংলিশ ক্লাবটির।
বৃহস্পতিবারের ম্যাচে ফরেস্ট নিজেদের সর্বনাশ নিজেরাই ডেকে আনে—আত্মঘাতী গোল, পেনাল্টি মিস এবং লাল কার্ড—সবই এক ম্যাচে। ৫৩তম মিনিটে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন মর্গান গিবস-হোয়াইট। ঠিক ৫৫ সেকেন্ড পরই রায়ান ইয়েটসের আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ে দলটি।
এই পরাজয়ের ফলে ইউরোপা লিগের লিগ পর্বে শীর্ষ আটে থেকে সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত করার আশা কার্যত শেষ ফরেস্টের। শেষ ম্যাচে হাঙ্গেরির ফেরেন্সভারোশকে হারালেও তাদের প্লে-অফ খেলতে হতে পারে।
ম্যাচ শেষে ফরেস্ট কোচ শন ডাইচ বলেন, “এক মিনিটের পাগলামিই ম্যাচটা শেষ করে দিয়েছে। আমরা পেনাল্টি মিস করলাম—এটা হতে পারে। কিন্তু এরপর যে প্রতিক্রিয়া দেখালাম, সেটাই হতাশাজনক। সহজ একটি গোল হজম করে বসি।”
আরও হতাশার বিষয় হলো, ব্রাগা পুরো ম্যাচে একটিও শট অন টার্গেটে না রেখেই জয় পায়—যা ইউরোপা লিগের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা।
ফরেস্টের পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ ছিলেন ভ্রমণকারী সমর্থকরাও। বিরতি ও ম্যাচ শেষে দুবারই দলের বিরুদ্ধে দুয়ো শোনা যায়। ম্যাচে সাতটি পরিবর্তন এনে দল সাজালেও কাঙ্ক্ষিত ধার পাওয়া যায়নি।
ডাইচ বলেন, “চেষ্টা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তের ধার ছিল না। প্রিমিয়ার লিগ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, আবার এই প্রতিযোগিতিতেও ভালো করতে চেয়েছিলাম। ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
ম্যাচের শেষ দিকে এলিয়ট অ্যান্ডারসন লাল কার্ড দেখায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। ফলে তিনি শেষ গ্রুপ ম্যাচে খেলতে পারবেন না। এমনকি সম্ভাব্য ফেব্রুয়ারির প্লে-অফেও তার নিষেধাজ্ঞা বাড়তে পারে।
সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি ডিফেন্ডার জোলিয়ন লেস্কট ম্যাচ বিশ্লেষণে বলেন, “এই ম্যাচের সারসংক্ষেপ এক কথায়—গোছানো নয়, পুরোপুরি বিশৃঙ্খলা। কোনো ইতিবাচক দিক খুঁজে পাওয়া কঠিন।”
