জামালপুরে পুলিশের চেকপোস্টে গাড়ি থামানোর সময় ট্রাক চাপায় দেলোয়ার হোসেন (৫০) ও ইসতিয়াক আহাম্মেদ (২০) দুই মোটরসাইকেল আরোহী বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছে শিশু আবরার (৫)। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতার আক্রমণে আহত হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। পরে মরদেহ নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখেন স্থানীয়রা।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ১টার দিকে জামালপুর-শেরপুর সেতু এলাকার দক্ষিণ পাশের সড়কে পুলিশ চেকপোস্টের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, শেরপুর সদর উপজেলার চরমাচারিয়া ইউনিয়নের কেন্দুয়ার চর মাঝপাড়া গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ও তার ছেলে ইসতিয়াক আহম্মেদ। আহত হয়েছেন আরেক ছেলে আবরার। তারা জামালপুর পৌর শহরের মুকুন্দবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তারা জামালপুর থেকে শেরপুর গ্রামের বাড়িতে জুম্মার নামাজ আদায় করার জন্য যাচ্ছিলেন।
নিহত দেলোয়ার হোসেন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। এদিকে ছেলে ইসিতিয়াক আহাম্মেদ একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
স্থানীয়রা জানায়, দুপুরের দিকে দেলোয়ার হোসেন তার দুই ছেলে ইসতিয়াক ও আবরারকে সঙ্গে নিয়ে জুমার নামাজ আদায় করার জন্য গ্রামের বাড়ি শেরপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ি এলাকার ভাড়া বাড়ি থেকে বের হন। শেরপুর যাওয়ার পথে জামালপুর-শেরপুর সেতুর দক্ষিণ পাশের চেকপোস্টে দায়িত্বপালন করা কয়েকজন পুলিশ সদস্য শেরপুরগামী একটি ট্রাককে দাঁড়ানোর জন্য ইশারা দেন। পুলিশের কথা অমান্য করে ট্রাকচালক দ্রুত চেকপোস্ট অতিক্রম করতে যায়।
এ সময় ওই ট্রাকচালক ট্রাকের সামনে থাকা মোটরসাইকেলটিকে পিছন থেকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাবা দেলোয়ার হোসেন ও বড় ছেলে ইসতিয়াক মারা যায়। আহত হয় ছোট ছেলে আবরার। এ ঘটনা চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকারি পুলিশ সদস্যরা ঘাতক ট্রাককে আটক করেন। পরে তারা ওই ট্রাককে ছেড়ে দিলে উত্তেজিত জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়।
সড়ক দুর্ঘটনার বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয়রা। এতে জামালপুর-শেরপুর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় আর দূর্ভোগে পড়েন পথচারীরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু তাদের আশ্বাসেও স্থানীয়রা তাদের অবরোধ থেকে সড়ে যায়নি।
জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, ঘটনা জানার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে লাশ দু'টি উদ্ধারের চেষ্টা করছি। কিন্তু স্থানীয়রা বিচার দাবি করায় তা সম্ভব হয়নি। আমরা ঘটনাস্থলেই আছি।
এ বিষয়ে জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াহিয়া আল মামুন চেকপোস্ট থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনার পর স্থানীয়দের হামলায় একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আমরা এখনো ঘটনাস্থলে আছি।