অপ্রতিম হত্যা: দ্রুত বিচারের দাবিতে কুবি শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি

অপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারসহ ৪ দফা দাবি এবং ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা।

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে অপ্রতিম হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারসহ ৪ দফা দাবি এবং ১২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন তারা।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বিভিন্ন বিভাগের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাই মরলো কেন? প্রশাসন জবাব দে’, ‘বিচার বিচার বিচার চাই’, ‘অপ্রতিম হত্যার বিচার চাই’—ইত্যাদি স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ।

শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো—

১. অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি ও বিস্তারিত তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

২. কুমিল্লা শহর ও আশপাশের এলাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, কুমিল্লা পুলিশ প্রশাসন, সদর দক্ষিণ থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বশীলদের স্বীকার করে নিতে হবে।

৩. জরুরি নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে অবিলম্বে একটি স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করতে হবে।

৪. ১২ ঘণ্টার মধ্যে কুমিল্লা জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে সুরক্ষামূলক দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন তারা।

মানববন্ধনে কুবি শিক্ষার্থী হাসান অন্তর বলেন, ‘আমরা ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে জেলা পুলিশ সুপারকে (এসপি) এসে জানাতে হবে তদন্তে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমরা দেখেছি, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা ও একজনকে আটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরই মুখ্য ভূমিকা রাখতে হয়েছে। সকালে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরও ফরেনসিক টিম দীর্ঘ সময় পর এসে পৌঁছায়। গাড়ি সংকটের অজুহাত দেখালে প্রশাসনের দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘অপ্রতিমকে আমরা নিজের চোখে ক্যাম্পাসের রাস্তায় খেলতে দেখেছি। ওর শিক্ষক মা আমাদের মাতৃতুল্য। সন্তানের এমন নির্মম পরিণতি কোনো মা কীভাবে সহ্য করবেন? আমাদের শিশুদের নিরাপত্তাও দিতে পারছে না এই প্রশাসন।’

গতকাল শুক্রবার বিকালে কোটবাড়ির বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ১৩ বছরের অপ্রতিম। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থান কুবি-সংলগ্ন সামাজিক বনায়ন এলাকায় শনাক্ত করা হয়।

আজ শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাকে খুঁজতে বের হলে স্থানীয় এক ব্যক্তির তথ্যের ভিত্তিতে সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের একটি টিলা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহালে নিহতের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তে পুলিশ কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত