নতুন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল

তাজুলের নিয়োগ বাতিল

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৩ এএম

১৭ মাস আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ পাওয়া অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। পাশাপাশি এ পদে নিয়োগ পেয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম। গতকাল সোমবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর অনুবিভাগের এক প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আমিনুল ইসলামকে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাটর্নি জেনারেলের পদমর্যাদায় নিয়োগ পেয়ে প্রাপ্য বেতন সুবিধা পান। গত দুদিন ধরে তাজুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে গুঞ্জন ওঠে।

গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয় আওয়ামী লীগ সরকার। গণআন্দোলন দমনে হাজারের বেশি মানুষ হত্যার অভিযোগ ওঠে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে। ওই বছরের ৮ আগস্ট নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার এসব হত্যাকা- ও নির্যাতনকে মানবতাবিরোধী অপরাধ বিবেচনা করে বিচারের উদ্যোগ নেয়। পুনর্গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম। তার সঙ্গে কয়েকজন প্রসিকিউটরও নিয়োগ করা হয় সে সময়। আইনজীবী তাজুল ইসলাম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ট্রাইব্যুনালে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার বিচারের সময় জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের আইনজীবী হিসেবে আইনি শুনানি করেন। তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে একটি মামলায় গত বছর ১৭ নভেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসির দ- দিয়েছে। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর মামলার রায়সহ এখন পর্যন্ত তিনটি রায় দিয়েছে।

নতুন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়। তিনি ১৯৯৩ সালের ২৭ মে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মামলায় আইনজীবী হিসেবে আইনি শুনানি করেছিলেন। জাতীয়বাদী আইনজীবী ফোরামের সহসভাপতিও ছিলেন তিনি। অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম পিলখানায় বিডিআর হত্যাকা- ও একই ঘটনায় বিস্ফোরক আইনের মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে শুনানি করেন।

 

যা বললেন তাজুল ইসলাম : বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম গতকাল দুপুরে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘আমি প্রত্যেকের ওপরই সন্তুষ্ট। আজকে একটা আনন্দ নিয়েই যাচ্ছি। যতদিন দায়িত্ব পালন করেছি, প্রত্যেকে আমাকে সহযোগিতা করেছেন। আশা করব, যিনি চিফ প্রসিকিউটর আসছেন, তিনি একই ধরনের সহযোগিতা পাবেন, তিনিও সফল হবেন। বাংলাদেশকে সবাই মিলে আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক সরকার, কোনো নির্বাচিত নতুন সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় তারা পছন্দের লোকজন বসাবে। এটা হচ্ছে স্বাভাবিক নিয়ম।’ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে কোনো শঙ্কার কারণ নেই। নতুন যিনি দায়িত্বে আসছেন, তিনি বিচারপ্রার্থী নির্যাতনের শিকার ও বেদনাহত মানুষের কথা মাথায় রাখবেন। তাদের প্রতি সুবিচারের স্বার্থে এ বিচারপ্রক্রিয়া সামনে অগ্রসর হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমার মূল পরিচয় আমি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী। আমার জায়গা হচ্ছে আইন পেশা। আমি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে আমার স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরে যাব। আমি তো একদিনের জন্য বেকার থাকছি না। আপাতত আমার পুরনো পেশায় ফিরে যাচ্ছি।’

                        নিরপরাধ নয়, অপরাধীদের প্রাপ্য সাজা পেতে হবে : চিফ প্রসিকিউটর

ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্ব নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘দায়িত্ব গ্রহণ করার পর আমার কাছে মনে হয়েছে, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। আমাদের জুলাই বিপ্লবে যারা আত্মদান করেছেন, পঙ্গুত্ববরণ করেছেন, আমি মনে করি তাদের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী এ ট্রাইব্যুনালে যাতে আমি আমার কর্তব্য পালন করতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘এই ট্রাইব্যুনালে যেসব বিচার চলমান আছে এবং আগামী দিনে যেসব মামলা বিচারের জন্য আসবে, আমরা সম্পূর্ণরূপে চেষ্টা করব যে, আমাদের জুলাই শহীদদের আকাক্সক্ষা অনুযায়ী যাতে বিচারকাজে সহযোগিতা করতে পারি।’ চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘এই ট্রাইব্যুনালে যেসব আসামির মামলা বিচারাধীন তাদের জন্য সুস্পষ্ট বার্তা হলো, যারা কোনো অন্যায় করেননি তারা প্রসিকিউশনের মাধ্যমে কোনো হয়রানি শিকার হবেন না। কিন্তু যারা প্রকৃত অপরাধী, প্রাপ্য সাজা তাদের পেতে হবে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত