চট্টগ্রামের ঘটনায় মায়ের পর চলে গেল ছেলেটিও

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৪ এএম

চট্টগ্রামে হালিশহরের গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ দগ্ধ ৯ জনের আরও একজন মারা গেছে। তার নাম শাওন (১৬)। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে, সোমবার মারা যান তার মা নুরজাহান আক্তার রানী (৪০)।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শাওনের শরীর ৫০ শতাংশ দগ্ধ ও শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

ডা. শাওন জানান, বর্তমানে একই পরিবারের মো. সাখাওয়াত হোসেন ১০০ শতাংশ, মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা ৩৮ শতাংশ, সামির আহমেদ সুমন ৪৫ শতাংশ, আশুরা আক্তার পাখি ১০০ শতাংশ, আয়েশা ৪৫ শতাংশ, ফারহান আহমেদ আনাস ৩০ শতাংশ এবং শিপন ৮০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের সবার অবস্থা  আশঙ্কাজনক।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, হালিশহরের ওই বাসার রান্নাঘরে সম্ভবত গ্যাস জমেছিল। আগুন জ্বালাতেই বিস্ফোরণ ঘটে। সন্ধ্যার দিকে তাদের ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসেন স্বজনরা।

দগ্ধ সাখাওয়াতের চাচাতো ভাই মো. মিলন জানান, সাখাওয়াত হোসেন হালিশহরে মোটর পার্টসের ব্যবসা করেন। পর্তুগাল প্রবাসী ভাই সুমন চলতি মাসের ৪ তারিখে দেশে আসে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসার জন্য সুমন পরিবার নিয়ে চট্টগ্রামে সাখাওয়াতের বাসায় আসেন। আরেক ছোট ভাই শিপন হালিশহরেরই বাসিন্দা।

একই পরিবারের দগ্ধ চার: দেশ রূপান্তরের দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, গতকাল মঙ্গলবার ভোরে কুমিল্লার দাউদকান্দিও এক বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে এক পরিবারের ৪ জন দগ্ধ হয়েছে।

দাউদকান্দি উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাব অফিসার মো. সালাউদ্দিন জানান, ভোর রাতে উপজেলার পশ্চিম মাইজপাড়া (বলদা খাল) গ্রামের তিনতলা ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। এতে দাউদকান্দি গ্রামীণ ব্যাংক শাখার ম্যানেজার মনোয়ারা (৬০), জিয়াউল হক (৩৭), উম্মে হুমায়রা (৩০) ও হুররাম (২) দগ্ধ হন। এদের মধ্যে জিয়াউল হক ও হুমায়রার দগ্ধের পরিমাণ বেশি হওয়ায় তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ভুক্তভোগী পরিবারটি ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া।

মো. সালাউদ্দিন জানান, লাইনের গ্যাস লিকেজ হয়ে ঘর ভর্তি হয়ে যায়। ভোর রাতে যখন চুলায় আগুন ধরানোর চেষ্টা করা হয়, তখন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ভোর সাড়ে ৫টায় খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।

বাখরাবাদ গ্যাস স্টেশন গৌরীপুর অঞ্চলের ইনচার্জ প্রকৌশলী অম্লান কুমার দত্ত দেশ রূপান্তরকে জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে আলাপ করেছি। তবে কারা অবৈধ সংযোগটি দিয়েছে সে তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, মাত্র কয়েক দিন আগেই ভবনটির অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।

একসঙ্গে কাজ করবে ৩ মন্ত্রণালয়: গ্যাস লিকেজ থেকে দুর্ঘটনা রোধে সরকারের তিনটি মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু গতকাল গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা জানান। তিনি বলেন, শিল্প মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে আমরা এটা নিয়ে কাজ করতে চাই।

মন্ত্রী এর আগে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন চট্টগ্রামের হালিশহরে দগ্ধদের চিকিৎসার খোঁজ নেন।

আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, সারা বছরই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটে।

মেয়াদোত্তীর্ণ যে গ্যাস সিলিন্ডারগুলো ব্যবহার করা হয়, এগুলোকে কীভাবে একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা যায়, সেগুলো নিয়ে অল্প সময়ের ভেতরে তিন মন্ত্রণালয় বসে কাজ করব। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে যাতে কম ক্ষতি হয়, সেই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত