ট্রাম্পের নতুন শুল্কে জটিলতায় চুক্তি

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৭ এএম

বিশ্বব্যপী শুল্কযুদ্ধ ঘোষণার পর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্য চুক্তি শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সেই আলোকে বাংলাদেশের ওপর ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্ক কার্যকর ছিল। এর মধ্যে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ওই শুল্কহারে বাংলাদেশের সঙ্গেও দেশটির একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে গত শুক্রবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দেখা দেয় নতুন অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেই ট্রাম্প ফের ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। যদিও গতকাল মঙ্গলবার থেকে ১০ শতাংশ হারে নতুন বৈশ্বিক শুল্ক কার্যকর হয়েছে। বারবার শুল্কহার পরিবর্তনের ফলে এখন সেই চুক্তি নিয়ে নতুন জটিলতা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন দেশের রপ্তানিকারকরা। এ পরিস্থিতিতে পরবর্তী করণীয় কী হবে, তা নির্ধারণে আজ অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকে বসছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্ক স্থগিত করার পর, দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে ‘টালবাহানা করা’ দেশগুলোর ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গতকাল বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে এখতিয়ার বলে বাংলাদেশের সঙ্গে পাল্টা শুল্ক হ্রাস ও বাণিজ্য চুক্তি করেছে। এর মধ্যে ওই দেশের উচ্চ আদালত শুল্ক বাতিল করেছেন। আদালতের রায়ের পরপরই তারা দুই দফা শুল্ক আরোপ করেছে। যদিও সেটা এখনো পরিষ্কার নয়। যে কারণে আমরা চূড়ান্ত কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। অপেক্ষা করছি। তবে এখন পর্যন্ত যে বিষয়গুলো আমাদের সামনে এসেছে, সেটা মূল্যায়ন করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে আগামীকাল একটি বৈঠক ডেকেছি।’

সচিব জানান, পাল্টা শুল্ক নিয়ে এখন যুক্তরাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেটি তাদের দেশের আইন অনুযায়ী হচ্ছে। আগে তা ছিল বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আর্টিকেল ২১ অনুযায়ী। কিন্তু এখন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বলছে, এর ফলে প্রেসিডেন্ট এসব চুক্তি করতে পারেন না। যাই হোক সেটি তাদের সিদ্ধান্ত।

মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এখন যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের আইন অনুযায়ী ১২২ ও ৩০১ ধারায় কী কী শুল্ক আদায় করতে পারবে, সেটি দেখবে। কিন্তু এরই মধ্যে তারা প্রচুর শুল্ক আদায় করেছে। সেগুলোর বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে সেটি জানা দরকার।’

সমাধান কীভাবে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। পাশাপাশি আমাদের ব্যবসায়ীদের মতামত জানার জন্য বৈঠক ডেকেছি। আশা করছি, একটি সঠিক সিদ্ধান্ত আসবে।’

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন যে শুল্ক আরোপ করেছিল, সেটি মার্কিন আদালত বাতিল করেছে। এর মানে বাংলাদেশের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, সেটি বাতিল হয়ে গেছে, বিষয়টি এমন নয়। এখানে শুল্ক এবং চুক্তি দুটি আলাদা বিষয়। শুল্ক বাতিল হলেও চুক্তি কিন্তু থেকে যাবে। সেজন্য আমাদের দাবি হচ্ছে, যেহেতু তাদের দেশের আদালত বলেছে, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত সঠিক নয় সেহেতু শুল্ক ইস্যুতে যে চুক্তিটি গুরুত্বসহ করা হয়েছে, এখন সেই চুক্তিটির শর্ত পুনর্বিবেচনা করা দরকার। কারণ, এ চুক্তির সব শর্ত আমরা পরিপালন করতে পারব না বা সম্ভব নয়। যেমন তাদের কাঁচামাল দিয়ে উৎপাদিত পণ্যের শুল্ক ছাড়ের তথ্য সামনে এসছে, সেটি আসলে সঠিক নয়। এতে আমরা যা সুবিধা পাব, তার থেকে বেশি সুবিধা তাদের দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আমরা সরকারের কাছে আপত্তি জানিয়েছি, সরকারও আমাদের সঙ্গে একমত হয়েছে। আশা করছি, সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামীকাল (আজ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মার্কিন চুক্তি-সংক্রান্ত অংশীজনের সভা রয়েছে। সেখানে আমাদের মতামত তুলে ধরব।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত